খরচ তুলনামূলক অনেক
কম হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের অনেকেই ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালটিকে বেছে নেন। এখানে সপ্তাহে
শতাধিক রোগী ডায়ালাইসিস নেন।
দেশে নভেল করোনাভাইরাস
সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এমনিতেই বিভিন্ন হাসপাতাল নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে রক্ষণশীল
মনোভাব দেখাচ্ছে। এখন এই হাসপাতালেও চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে রোগীদের।
রোববার কুর্মিটোলা
জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান,
সোমবার এখানে ডায়ালাইসিস হবে না বলে কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে।
রুমা বেগম নামে এক
রোগী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে ছয় মাসের জন্য ২০ হাজার টাকায় ৪৮টা ডায়ালাইসিস
নেওয়া যায়। অথচ বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিবার ডায়ালাইসিসের জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা
লাগে।
এত টাকা খরচ করে বাইরে
চিকিৎসা করানোর সাধ্য নেই তিনি বলেন, “ডায়ালাইসিস না করতে দিলে মইরা যামু। এমনিতে আমাগো
অনেক টাকা খরচ হয়। প্রাইভেটে গেলেও অনেক টাকার ব্যাপার। যেটা আমাগো মতো লোকের সম্ভব
না।”
দূরপাল্লার যানবাহন
চলাচল বন্ধের মধ্যেও কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে এসেছেন আবু তালেব। চল্লিশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি
জানান, গত দুই বছর ধরে এখানে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন তিনি। ভৈরবে এই চিকিৎসা সুবিধা নেই।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে তালেব বলেন, “লকডাউনের মধ্যেও দেড় হাজার টাকা খরচ করে এসেছি। যেখানে মাত্র দেড়শ
টাকার মতো খরচ করলেই আসা যায়।
“এখন চিকিৎসা করতে
অন্য হাসপাতালেও নিচ্ছে না। সবাই ভাবে যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত। আর সেখানে খরচও বেশি।
কোনো ব্যবস্থা না করলে উপায় থাকবে না।”
ঢাকায় নভেল করোনাভাইরাস
আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য যেসব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
সেগুলোর একটা ।
জানতে চাইলে হাসপাতালটির
উপপরিচালক লে. কর্নেল এবিএম বেলায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার
আদেশ দিয়েছে, এটাকে করোনাভাইরাসের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে।
“ফুল ফেইজে করোনাভাইরাসের
চিকিৎসা হলে তখন তো শুধু সেই রোগীকেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে। অন্য কোনো রোগী এখানে রাখা
যাবে না। তাদের অন্য কোথায় ডায়ালাইসিস দেওয়া যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে।”
এখানে যারা কিডনির
চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের বিকল্প কোথায় হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কিডনি
ফাউন্ডেশন হাসপাতালে শিফট করার প্রস্তাব ডিজি হেলথে দেওয়া হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে।
কারণ ডায়ালাইসিস ছাড়া তো এসব রোগী বাঁচানো যাবে না। সুতরাং এটা খুবই জরুরি।“
এবিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে
স্বাস্থ্য অধিপ্তরের কোনো বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।