সোমবার দুপুরে করোনাভাইরাস
সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের
(আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা জানান।
জাহিদ মালেক বলেন,
“আমাদের ইতোমধ্যে ১১টি ল্যাব কাজ করছে প্রায়..আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন
ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান
ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই
পরীক্ষার পরিধি আমরা বৃদ্ধি করেছি।”
তিনি আরও জানান, দেশের
বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও
ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে।
দেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষায়
পর্যাপ্ত টেস্ট কিট রয়েছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংশয় প্রকাশ
করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “কিটস আর পরীক্ষার অভাব নাই, পিপিইওর অভাব নাই- এমন
তথ্য দিলে জনগণ আশ্বস্ত হয়।”
কোভিড-১৯ সংক্রমণের
এ পর্যায়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশ এখন ভালো
আছে, নিরাপদে আছে। আমরা আশা করছি, এ বিরাট
সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।
“কাজ যা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে
তা ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো হবে। যেকোনো রকমের প্রয়োজনে আমরা সার্বক্ষণিক আপনাদের
সাথে আছি। আমিও নিজেই তদারকি করছি। আশা করি, অল্পদিনে সমস্যা দূর করতে পারব।”
কোথাও কোনো অসুবিধা
হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টারে জানাতে দেশবাসীকে অনুরোধ
জানিয়েছেন তিনি।
আইইডিসিআর ছাড়াও ঢাকা
শিশু হাসপাতাল, আইপিএইচ ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব
ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের
ফিল্ড ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার
কথা রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ও বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সোমবারের ব্রিফিংয়ে
যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক
হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা পিসিআর টেস্ট শুরু হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
“এছাড়া আগামী এক সপ্তাহের
মধ্যেই খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর টেস্ট শুরু হবে।”
তিনি জানান, স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর পিসিআর টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে ৯২ হাজার টেস্ট কিট সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন পিসিআর
সেন্টারে ২০ হাজার কিট বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনও ৭২ হাজার টেস্ট
কিট রয়েছে।
হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন,
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭৩০ জন চিকিৎসক ও ৪৩ জনকে নার্সকে
কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। নমুনা সংগ্রহের জন্য
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের। যারা বাকি রয়ে গেছে তাদের সোমবার বিকালে
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।