সোমবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, “অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, অনেক জায়গায় পৌরসভা ও মহানগরে তারা সেভাবে সাহায্য পাচ্ছেন না। আজকে আমরা একটা নির্দেশনা পাঠিয়ে দেব, যাতে ওইসব এলাকার কর্মহীন মানুষরাও সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকালও আমাদের টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই লকডাউনের সময়ে কোনও কর্মজীবী মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ফেরিওয়ালা, চা বিক্রেতা ও দিনমজুর কেউ যেন খাদ্য কষ্টে না পড়েন।”
আগের দিন এক নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে দেশের যেসব কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছেন এবং যেসকল মানুষ কর্মহীন অবস্থায় আছেন (যেমন- ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহনশ্রমিক, রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার) যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে সংসার চালান, তাদের তালিকা তৈরি প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ডা. এনামুর বলেন, এই কর্মসূচি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সকলের পাশে যেন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতা-কর্মীরা খাদ্য নিয়ে হাজির হন।
আজকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থান রয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল…
Posted by Enamur Rahman MP on Monday, 30 March 2020
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, দরিদ্রদের সহায়তার জন্য ২৪ মার্চে পর থেকে মোট ২৪ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “২৮ তারিখে জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। কিন্তু চাল ও টাকা প্রায় ফুরিয়ে আসছে। আমরা আবার সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন চাল ও এককোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।”
সেই বরাদ্দও প্রায় ফুরিয়ে আসায় সোমবার নতুন করে দেশের সব জেলায় চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের মানবতাবাদী মাননীয় প্রধামন্ত্রী সদাজাগ্রত অবস্থায় আছেন। তিনি সবসময় আপনাদের সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিচ্ছেন।”
“আমরা আশা করি, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের যে লকডাউন করা হয়েছে, তারপর থেকে বাংলাদেশ করোনামুক্ত হয়ে যাবে। এরপর স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা ফিরে যেতে পারব।”
ছুটির দিনেও কাজ করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।