রোববার রাতে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ১২ বছর
বয়সী এই শিশুকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়; সোমবার ভোরে ঢাকা
নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান।
চিকিৎসকরা বলছেন, তার মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ছিল
না; তাই তার করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
তবে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মনাইরকান্দি
গ্রামের এই শিশুর মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন আবুল কালাম
আজাদ বলেন, জ্বর নিয়ে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শিুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ভর্তি করা হয়। তার শ্বাসকষ্ট বা সর্দি-কাশি ছিল না; বেশ জ্বর ছিল; ঘার বাঁকা হয়ে যাচ্ছিল।
পরে অবস্থা খারাপ হলে ভোরে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
“বিষয়টি আমরা আইইডিসিআরকে জানালে তারা
এটি করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নয় বলে জানান।”
ওই শিশুর বাড়িটি লকডাউন করা হবে কিনা বা কোনো প্রস্তুতি আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে
সিভিল সার্জন বলেন, “এখন যেকোনো মৃত্যু হলেই মানুষ একটু আতঙ্কিত হয়। আমি বলেছি ওই বাড়ির
লোকদের বলে দিতে তারা যেন সতর্ক থাকে।”
তিনি বলেন, এমনিতেই তো এখন সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। চারদিকে যেহেতু সবকিছু
বন্ধ। তারা যেন বাড়িতে সর্তক থাকে এবং কেউ যদি অসুস্থ হয় তা যেন স্বাস্থ্য বিভাগে জানায়।
আর লকডাউন বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে যে স্থানীয় করোনাভাইরস বিষয়ক কমিটি আছে
তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান
সাদী বলেন, “গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাসলিমা
আক্তার নিশ্চিত করেছেন এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। তাই ওই শিশুর বাড়ি লকডাউন করার কোনো পরিকল্পনা
এই মুহুর্তে নেই। তবে সর্তকর্তামূলক কার্যক্রম চলবে।”
স্থানীয় শামীম বলেন, চারদিন জ্বর ছিল
এই শিশুর। সে অ্যাজমায় আক্রান্ত ছিল। তার পাশের বাড়িতে ইতালি থেকে সম্প্রতি এক ব্যক্তি
এসেছেন। তবে তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।
স্থানীয় কবরস্থানে শিশুটিকে দাপণ করা
হয়েছে; এই শিশুর মৃত্যুর পর এলাকায় করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে শামীম জানান।