ক্যাটাগরি

প্রবাসী বলছে হয়রানি, পুলিশ বলছে অনুরোধ

সিদ্দিক খান নামে ওই ফ্রান্স প্রবাসীর বাড়ি বরিশাল সদর
উপজেলার চরকাউয়া এলাকায়। তিনি বসবাস করেন প্যারিসে।

গত ২৩ মার্চ ফেইসবুক লাইভে এসে সিদ্দিক খান বলেন, “করোনাভাইরাসের
কারণে ফ্রান্স সরকারের নির্দেশে সাত দিন ধরে বাসায় অবস্থান করছেন। লাইভ করার জন্য
বাধ্য হয়ে বাসার সামনে বের হতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্যারিসে অবস্থান করলেও তার খোঁজে চার
দিন ধরে পুলিশ নিয়মিত তাদের গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে
নানাভাবে ‘হয়রানিসহ থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছে পুলিশ।’

প্রায় সাত মিনিটের ফেইসবুক লাইভে সিদ্দিক খান বলেন, “আমি
বাংলাদেশে গিয়েছি এমন কোনো প্রমাণ পুলিশের কাছে নেই। তবুও তারা হয়রানি করছে। দেশের
এমন পরিস্থিতিতে এখন কী হয়রানি করা, ঘুষ খাওয়ার সময়!

“পুলিশ-ই যদি গুজব ছড়ায় তা হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে।”

এ ব্যাপারে প্রবাসী সিদ্দিকের বাবা আব্দুর রব খান জানান, ২৩
মার্চ দুপুরে সিদ্দিকের খোঁজে প্রথমে বাড়িতে আসে ম্যাজিস্ট্রেট। সিদ্দিক দেশে
আসেনি, এ কথা তাদের জানালে তারা চলে যায়। এর আগে তিনদিন সিদ্দিককে খুঁজতে আসে
পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর বন্দর থানার ওসির নেতৃত্বে দুই গাড়ি পুলিশ আসে
তাদের বাড়ি। পুরো বাড়িতে সিদ্দিককে খুঁজতে থাকে তারা বলে জানান তিনি।

আব্দুর বর খানের বলেন, “সিদ্দিক দেশে আসেনি এক কথা বলতেই
ক্ষেপে যান ওসি। শুরু করেন অশালীন ভাষায় গালাগালি। এক পর্যায়ে তাকে ধরে নিয়ে
যাওয়ার হুমকিও দেন।

“এ সময় ওই ঘটনা তার নাতনি মোবাইল ফোনে ধারন করতে গেলে
মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন ওসি।”

এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় মাছের ঘের ব্যবসায়ী
কামরুল ইসলাম।

তিনি জানান, বৃদ্ধ ব্যক্তির সাথে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ
করেন তিনি। এ সময় ওসি তাকে বেঁধে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলে চুপ হয়ে যান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বরিশাল মহানগর
পুলিশের বন্দর থানার ওসি আনোয়ার তালুকদার।

তার দাবি, ফ্রান্স প্রবাসী সিদ্দিক খান দেশে ফিরেছেন এবং
প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন খবরের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে
গিয়েছিলেন তিনি।

সিদ্দিকের কথা জিজ্ঞেস করতেই তার বাবা আব্দুর রব পুলিশের
সাথে খারাপ আচরণ করেন বলে পাল্টা অভিযোগ তোলেন ওসি।

ওসি আরো বলেন, “গ্রেপ্তার করতে নয়, সিদ্দিককে ১৪ দিন
কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য অনুরোধ করতেই তাদের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ।”

প্রবাসী সিদ্দিক খানের বিরুদ্ধে কোনো মামলার খবর পাওয়া
যায়নি।