শনিবার পালং বাজারের পাইকারী চাল ব্যবসায়ী কোতোয়াল এন্টার প্রাইজের মালিক
আ. রহমান কোতোয়াল জানান, জেলার হাট-বাজারে কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয়পণ্যর দাম বেড়েছে।
এদিকে, দিনমজুর খেটে খাওয়া নিম্মআয়ের মানুষরা হয়ে পড়েছে বেকার, তাদের তেমন
কোনো রোজগার হচ্ছে না।
নিরালা আবাসিক এলাকার রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা দিনমজুর। লকডাউনের
কারণে আমরা ঘরে বসা-কোনো কাজকর্ম নেই।
“আগে প্রতিদিন এক হাজার টাকা রোজগার করতাম। এখন দুইশ টাকা রোজগার করা কষ্টকর।
এরপরে আবার বাজার দর বেড়ে গেছে। আমাদের পক্ষে বাজার করে খাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
শনিবার সকালে শরীয়তপুরের পালং বাজার, ভোজেশ্বর বাজার ও আংগারিয়া বাজারগুলোতে
ঘুরে দেখা গেছে, পালং বাজারের খান স্টোর, কোতোয়াল এন্টারপ্রাইজ, ইসমাইল স্টোর, বণিক
বাণিজ্য আলয় ও কাঁচাবাজারে ছামাদ জমাদ্দার দোকানে বিক্রি হচ্ছে চাল।
মিনিকেট প্রতি কেজি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা, পাইজম প্রতি কেজি ৪১ থেকে ৪৪ টাকা,
বালাম প্রতি কেজি ৪৩-৪৫ টাকা, পোলাও চাল প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ও দেশি মশুর
ডাল প্রতি কেজি ১১৫ টাকা , বিদেশি মশুর ডাল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মুগ ডাল প্রতি
কেজি ১২৫-১৩০ টাকা, সয়াবিন তৈল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজ
প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ও আলু প্রতি কেজি ২০টাকা দরে
বিক্রি হচ্ছে।
গত ১০ দিনে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে
বলছেন ক্রেতারা।
করোনাভাইরাস উপলক্ষে বন্ধ ঘোষণার পর মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ভোক্তা
অধিকার, মার্কেটিং অফিসার ও সেনাবাহিনী বাজার পর্যব্কেষণ করছে।
এ বন্ধের প্রথম দিকে বেশি দামে বিক্রি বা বাজার দর টানানো না থাকায় কয়েকজন
ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও বাজার দর কমেনি। বিশেষ করে চাল, চিনি, ডাল
ও ভোজ্যতেলের দাম।
বণিক বাণিজ্যালয়ের মালিক গনেশ বণিক বলেন, “করোনাভাইরাস উপলক্ষে লকডাউনের
কারণে নিত্যপণ্য কিছু কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে-এরমধ্যে চাল, ডাল, তেল ও চিনির দাম বেড়ে
গেছে।
“বর্তমানে ভোজ্যতেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আগের মত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে
না।”
পালং বাজারের পাইকারী চাল ব্যবসায়ী কোতোয়াল এন্টারপ্রাইজের মালিক আ. রহমান
কোতোয়াল বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার কারণে বর্তমানে চালের চাহিদা বেশি। গ্রামে
ধানের দামও বেশি। এ কারণে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।”
পালং বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম বেপারী জানান, শ্রমিক
না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে। মালামাল সরবরাহের গাড়ি পর্যাপ্ত না থাকায় চাল, ডাল, তেল
ও চিনিসহ কিছু কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে। বাকি সব মালামালে দর সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুজন কাজীও জানান,
চাল ডালের দাম আগে চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।