ক্যাটাগরি

সেবা অব্যাহত রাখতে ‘জরুরি প্রণোদনা’ চেয়েছে বিকাশ

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সীমিত আকারে ব্যাংকিং লেনদেন হওয়ায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএমএস) লেনদেন বেড়েছে। সাধারণ মানুষ বাইরে না বেরিয়ে ঘরে বসেই নানান জরুরী অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্য মোবাইল আর্থিক সেবার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এখন দিনে কেবল বিকাশেই গড়ে প্রায় ৬৫ লাখের বেশি লেনদেন হচ্ছে।

এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এমএফএস সেবায় টাকা পাঠানোর সীমা ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করেছে। একইসঙ্গে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ আউটে চার্জ না নেয়া এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের পেমেন্টের ক্ষেত্রে চার্জ না নেয়ার নির্দেশনা মানতে গিয়ে বিকাশের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মোবাইল আর্থিক সেবা অব্যাহত রাখতে ‘জরুরী প্রণোদনা’ প্রয়োজন বলে মনে করেন বিকাশের কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেনন, গত সাত দিনেই বিকাশ ৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। বর্তমান বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি থেকে অনুমান করা যায়, এই সংকট সম্পূর্ণরূপে কাটিয়ে উঠতে কয়েক মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

“এ অবস্থায় আমাদের জরুরী আর্থিক প্রণোদনা খুবই প্রয়োজন। আশা করছি, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ ছাড়া অন্যান্য পণ্য বিক্রেতার প্রতিষ্ঠান, বিপনি-বিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ কারণেই এমএফএস লেনদেন বেড়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো, ক্যাশ আউট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ওষুধ কেনার টাকা পরিশোধের মত সেবাগুলো বেশি ব্যবহার করছেন গ্রাহক।

শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছে। এর মধ্যেই এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু সংখ্যক এজেন্টদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছে। এজেন্ট পয়েন্টে ক্যাশ টাকা ও ডিজিটাল মানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর।

গত এক সপ্তাহে কেবল বিকাশের মাধ্যমে বিনামূল্যের ক্যাশআউট সেবা নিয়েছে ২৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক। যেখানে ৪ কোটি ৩ লাখ ৫১হাজার টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বিকাশ। একই সময়ে চার্জবিহীন পিটুপি সুবিধা নিয়েছেন ১১ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক; এক্ষেত্রে বিকাশের আয় কমেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

“রাজস্ব আয়ের এই চলমান নেতিবাচক ধারা মোবাইল আর্থিক সেবা খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সরকারে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।”

ডালিম বলেন, এই সংকটের সময় এমএফএস সেবার ব্যবহার আরও বাড়বে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধও এমএফএসের মাধ্যমে করা হবে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণে সফল মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেই সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাও সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো হবে।

“ফলে এই পরিস্থিতিতে সরকারের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরী সহায়তার মাধ্যমে টেকসই ব্যবস্থাপনা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি।”

বর্তমানে দেশে এমএফএসের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। যার ৮০ শতাংশই হয় বিকাশের মাধ্যমে।