বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ২ হাজার ২শ’ কোটি ডলারেরর এ চুক্তি করেছেন।
বিবিসি জানায়, এই মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশই একে অপরের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
ইলেকট্রনিকস, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাও এতে কমবে।
দুই দেশের পণ্যের ওপর বিদ্যমান সব শুল্ক উঠে যাবে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বরের মধ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সিঙ্গাপুরের চুক্তিতেও শুল্কমুক্তির একই সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।
যুক্তরাজ্য-সিঙ্গাপুরের চুক্তিটি অনেকটাই করা হয়েছে ইইউ-সিঙ্গাপুর চুক্তির আদলে। যুক্তরাজ্য বৃহত্তর বাণিজ্য আলোচনার অংশ হিসাবে এ চুক্তি সই করেছে।
গত ৩১ জানুয়াযরি রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ছেড়েছে যুক্তরাজ্য। ওই দিনটির পর থেকেই যুক্তরাজ্যের রূপান্তরকাল শুরু হয়েছে। এ সময়টি যুক্তরাজ্যের জন্য আলোচনার মধ্য দিয়ে ২৭ ইইউ রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক ঠিক করে নেওয়ার সময়।
তাই ইইউ এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এসব চুক্তির ওপরই নিরভর করবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।
বৃহস্পতিবার সই হওয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন,“এই চুক্তি আমাদের নিজ নিজ ব্যবসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুযোগ-সুবিধা এনে দেওয়া ছাড়াও সংরক্ষণবাদ ও নাতিবাদের বিরুদ্ধে এ (চুক্তি) এক শক্তিশালী বার্তা।”
মহামারীর ক্ষতি থেকে শক্তিশালীভাবে বিশ্বের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চুক্তিটি সিঙ্গাপুরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাজ্য বিশ্বে সিঙ্গাপুরের তৃতীয়-বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং ইউরোপে তাদের প্রধান বিনিয়োগকেন্দ্রও।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এসোসিয়েশন (আসিয়ান)-এর সদস্যদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের সঙ্গেই প্রথম মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করল যুক্তরাজ্য।
সিঙ্গাপুর একটি ছোট দেশ হলেও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার আঞ্চলিক সদরদপ্তর আছে সেখানে। তাই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।