বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা
থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৭টি ওয়ার্ডের ৬৭টি কেন্দ্রে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়।
ভোট গ্রহনকালে বিকাল
পৌনে ৩টার দিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ কেন্দ্রে দুই
কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন ফয়সাল ও মো. আরিফুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ
হয়।
এই সংঘর্ষে কাউন্সিলর
প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আহত হন।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে
নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূরবী গোলদার বলেন, দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর
সমর্থকদের মারামারির ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় পুলিশ শটগানের
পাঁচটি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে শহরের সাজেদা কবির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফ গেলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে তার
কথা হয়।
এই সময় নায়াব ইউসুফ
ভোটের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি দিলে প্রিজাইডিং অফিসার ও একদল যুবকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি
হয়।
এই ঘটনার ভিডিও ধারণ
করার কারণে ওই যবিকরা দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম আঞ্জুকে কিল ঘুষি মেরে
আহত করে; তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। আরেক সাংবাদিক ফরিদপুর প্রেসক্লাবের
সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামের পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বাধা দিলে ওই যুবকদের সঙ্গে
নায়াব ইউসুফের ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। তারা নায়ব ইউসুফের মোবা্ইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এই বিষয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের
সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে
হামলার শিকার হয়েছেন। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
অপর ঘটনা ঘটে দুপুর
দেড়টার দিকে শহরের আল আমিন পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
এখানে দুই কাউন্সিলর
প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনান ও মা. বাহালুল দিনার সাঈদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এই সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছে।
তাদের মধ্যে দুই জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শহরের কমলাপুর উচ্চ
বিদ্যালয় কেন্দ্রে শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মৃধা কাউন্সিল
পদে নির্বাচন করেন ২২ নম্ববর ওয়ার্ড থেকে। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান
কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন আহমেদ মিলার।
সকাল ৯টার দিকে নাসির
উদ্দিন আহমেদ মিলার হামলায় আহত হয়েছেন। তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান
বিএনপির মেয়র প্রার্থী
নায়াব ইউসুফ পৌরসভার নির্বাচন প্রত্যাখান করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি
জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার
দিকে শহরের কমলাপুরে নিজ বাসভবন ময়েজ মঞ্জিলে নায়াব ইউসুফ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা
দেন। তিনি এই নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান।
নায়াব ইউসুফ সাংবাদিকদের
বলেন, “এটি ছিল একটি স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু
আওয়ামী লীগ প্রতিটি কেন্দ্রে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
“আমি নিজেও একটি
কেন্দ্রে গিয়ে নাজেহাল হযেছি। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমি আবেদন জানাই
নির্বাচন কমিশনারের কাছে। এই নির্বাচন বাতিল করে শঙ্কামুক্ত পরিবেশে অবাধ ভোট
গ্রহণের ব্যবস্থা করা হোক।”
একই দিন ফরিদপুরের
মধুখালী পৌসভায়ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটি
কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শ্রীপুর সরকারি
প্রাথমিক কেন্দ্রে হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে।
জেলা নির্বাচন
কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনের পরিবেশ ছিল
শান্তিপূর্ণ। বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়ে আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বিএনপি
মেয়র প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আমাদের কাছে যদি কোনো লিখিত অভিযোগ দেন তবে তা
খতিয়ে দেখা হবে।”