বৃহস্পতিবার
কলাবাগানে পবার কার্যালয়ে এক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ
বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব আব্দুস সোবহান বলেন, “পার্কে মানুষ হাঁটতে চায় সকালে ও
সন্ধ্যায়। কিন্তু সেই সময়টিতেই যদি তা নিয়ম করে বন্ধ করে রাখা হয়, তবে এই পার্কের
লাভ কী?”
২০১৬
সালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৭টি পার্ক ও খেলার মাঠ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
২৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩১টি খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের প্রকল্প নেয়।
সম্প্রতি
এসব আধুনিক পার্ক ও খেলার মাঠগুলোর মধ্যে চারটি স্থানে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন
ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।
পবা
ঢাকা উত্তরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন পার্ক ও উত্তরা ৭ নম্বর পার্ক পরিদর্শন করে। আর
ঢাকা দক্ষিণে গুলিস্তানের শহীদ মতিউর পার্ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলাউদ্দিন
পার্ক (বাসাবো খেলার মাঠা) পরিদর্শন করে।
বিচারপতি
সাহাবুদ্দীন পার্ক নিয়ে পর্যালোচনায় বলা হয়, এই পার্কে লুঙ্গি পরে প্রবেশ করা যায় না।
পোশাক হিসাবে প্যান্ট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সকাল ১০টা থেকে
বিকাল ৩টা পর্যন্ত পার্ক ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এর বাইরে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
উত্তরা
৭ নম্বর সেক্টরের পার্কটি কেবল দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় মানুষ
ব্যবহার করতে পারে বলে জানানো হয়।
বীর
মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলাউদ্দিন পার্কেও সাধারণ মানুষের প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারিত ও
সীমাবদ্ধ।
আতিকুর
বলেন, ঢাকা
উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন ও সবুজায়ন নামের এই প্রকল্পে হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে,
সাইকেল চালানোর পথ, ফোয়ারা, শিশুদের খেলনা, শরীর চর্চার যন্ত্রপাতি, নারীদের আলাদা
বসার স্থান, বয়স্কদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা, সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর
ব্যবস্থা, নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ, পার্ক ও মাঠের সীমানা দেওয়াল সরিয়ে ফেলার
পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পে সবুজায়ন,
গাছ রোপণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, উন্নত টয়লেট স্থাপন ও সুপেয় পানির সুবিধা যোগ
করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।
উত্তরা
৭ নম্বর সেক্টরের পার্কটি নিয়ে বলা হয়, সেখানে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই এবং
আবর্জনার পাত্রগুলোর যত্ন নেওয়া হয় না।
গুলিস্তানে
শহীদ মতিউর পার্কটি নিয়ে বলা হয়, এটি বেশ অপরিচ্ছন্ন। পুকুর সংলগ্ন হাঁটার রাস্তা
ভাঙা। একদিকে ভাসমান মানুষের উপস্থিতি বেশি অন্যদিকে একটি অংশের দখল নিয়ে বাস
কাউন্টার বসানো হয়েছে। ব্যায়ামাগার বন্ধ, সরঞ্জামগুলো অবহেলিত। এই পার্কে
নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম।
পরিবেশ
বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব সোবহান বলেন, “ঢাকার পার্কগুলো যে সবই দখল হয়ে গেছে, তা
আর মানুষের অজানা নয়। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই যে পার্কগুলো
নির্মাণ করা হল, তা মানুষের উপকারে আসতে হবে।”