ক্যাটাগরি

ফরিদপুরে কামাল ইবনে ইউসুফের দাফন

জেলা শহরের কমলাপুরে ময়েজ মঞ্জিলে বাবা চৌধুরী
ইউসুফ আলী মোহন মিয়ার কবরের পাশে শুক্রবার দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা ৩টার দিকে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জানাজা
হয়। কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন অনেকে।

জানাজার পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও
সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় মারা যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। এর আগে গত ১৯ নভেম্বর নিউমিয়াজনিত সমস্যায়
হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে তার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এক সপ্তাহ ধরে তাকে হাসপাতালে
ভেন্টিলেটশনে রাখা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার দুই মেয়াদের সরকারে মন্ত্রীসভায়
দায়িত্ব পালন করা কামাল ইবনে ইউসুফের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র
পদে নির্বাচন করেছেন তার মেয়ে মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি হেরে
গেছেন।

১৯৪০ সালের ২৩ মে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করা চৌধুরী
কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুর-৩ আসন থেকে পাঁচবার সংসদে গেছেন।

তার দাদা চৌধুরী মঈজউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন জমিদার।
আর বাবা চৌধুরী ইউসুফ আলী (মোহন মিয়া) ছিলেন মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৯ সালে বিএনপিতে যোগ
দেওয়া কামাল ইবনে ইউসুফ ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট উন্নয়ন কাউন্সিলর (ডিডিসি) ছিলেন।
১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সময় স্থানীয় সরকার
ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই বিএনপি নেতা। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে
বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে কামাল ইবনে ইউসুফকে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর
দায়িত্ব দেন।

পরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়
তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্ত্রী ও চার মেয়ে রেখে
গেছেন। তার মৃত্যুতে পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোক
সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।