ক্যাটাগরি

বৈরুত বিস্ফোরণ: লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অভিযুক্ত

গত ৪ অগাস্ট লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরকের গুদামে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে নগরীর অর্ধেকই ধুলিস্যাৎ হয়।

এরপরই পদত্যাগ করেছিল প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের সরকার। দিয়াব পদত্যাগ করার পরও তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে থেকে যান।

বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিচারক ফাদি সাওয়ান বৃহস্পতিবার দিয়াবসহ সাবেক অর্থমন্ত্রী আলি হাসান খলিল এবং সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী গাজি জৈতার ও ইউসেফ ফিনিয়ানোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

আগামী সপ্তাহে চারজনকেই মামলার আসামী হিসাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন সাওয়ান। এর আগে তাদেরকে কেবল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। লেবাননে এই চারজনই প্রথম রাজনীতিবিদ হিসাবে অভিযুক্ত হলেন।

হাসান দিয়াব তাকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তার বিবেক পরিষ্কার। অভিযোগ আনা বিচারকের বিরুদ্ধেই উল্টো সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন তিনি।

লেবাননে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে দায়িত্বে থাকা দিয়াবের সরকার বরাবরই বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরকের গুদামে বিস্ফোরণের ঝুঁকির ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

লেবাননের পূর্ববর্তী সরকারগুলোকে ওই বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে আসা হলেও কেউই এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দিয়াব বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন।

বৃহস্পতিবার দিয়াবের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনার পর তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনি (দিয়াব) বিস্ফোরণের ঘটনা দায়িত্বশীলভাবেই সামাল দিয়েছেন এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। তাকে এভাবে অভিযোগের নিশানা করা বিস্ময়কর এবং দিয়াব কোনও পক্ষকেই প্রধানমন্ত্রীত্বকে নিশানা করতে দেবেন না।

দুই সাবেক মন্ত্রী খলিল এবং ফিনিয়ানোস এ অভিযোগের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি।আরেক সাবেক মন্ত্রী জৈতার রয়টার্সকে বলেছেন, তাকে অভিযোগের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে তিনি বিবৃতি দেবেন।

লেবানন নানা সঙ্কটে জর্জরিত হলেও সেখানকার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নতুন মন্ত্রিসভা গড়তে একমত হতে না পারায় গত চারমাস ধরে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হয়ে আছেন হাসান দিয়াব।

নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য লেবাননে এরই মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে সাদ হারিরিকে। পদত্যাগের এক বছরের মাথায় গত ২২ অক্টোবরে হারিরি আবারও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন।