জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে এক
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “যত গালি দেন, উনি (শেখ হাসিনা) পদত্যাগ করবেন না। আমি এজন্য
ঠিক করেছি, তার একটা প্রশংসা করি। এটা কোনো দালালি করছি না। সত্যি সত্যি আমি মনে করি,
পদ্মা সেতু একটা ভালো কাজ হয়েছে। এটা একটা তো স্বপ্নের সেতু তো বটেই, অন্তত দক্ষিণাঞ্চলের
জন্য। কিন্তু এই সেতুর নির্মাণ নিয়ে কথা আছে।”
মান্না বলেন, “আমাদের পাশে আসাম এবং
অরুণাচল এই দুইটা রাজ্যের মাঝামাঝি একটা ব্রিজ করা হয়েছে, এটার নাম ভুপেন হাজারিকা
সেতু। ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা। পদ্মাসেতু হচ্ছে ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। ৯ দশমিক
১৫ কিলোমিটার লম্বা সেতু নির্মাণ করতে লেগেছে ১১২৮ কোটি টাকা। আর আমাদের সোয়া ৬ কিলোমিটার
ব্রিজ এখনও হয় নাই, এটার শুরুতে প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকার মতো।
“এখন পর্যন্ত ঠিক কত হাজার কোটি টাকা
খরচ করা হয়েছে একদম আপডেটেড হিসাব করা হয়নি। সবাই মনে করছেন, সর্বশেষ যেটা বলেছিল ৩০
হাজার কোটি টাকা, তার সাথে আরও ১০-২০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে। কমপ্লিট করতে আরও
হয়ত ২০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। তার মানে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা লাগবে এই সোয়া ৬ কিলোমিটার
লম্বা সেতু বানাবার জন্য। ওরা যদি সোয়া ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু ১১২৮ কোটি টাকা দিয়ে
করতে পারে, এখানে এতো টাকা লাগবে কেন?”
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, “আমরা কাউকে কেয়ার করি না, নিজেদের টাকায় করেছি। কেন আপনারা তো চীন থেকে লোন নিয়েছেন। ওই টাকার মধ্যে চীনা কোম্পানি নাই? তারা করেছে না? তারা সুদ নিচ্ছে না। সুদের হার কত? মিনিমাম ৪%। আর বিশ্ব ব্যাংক যে টাকা দিত, সেই টাকার সুদের হার ছিল পয়েন্ট টু-ফাইভ পারসেন্ট থেকে পয়েন্ট ফাইভ জিরো। নেননি কেন সেই টাকা?
“ওরা (বিশ্ব ব্যাংক) একটা দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল।
দুর্নীতির তদন্ত করেননি। শুধু গায়ের জোরে বলেছেন- নেব না তোমাদের টাকা। কেন? কারণ বিশ্ব
ব্যাংক যদি টাকা দিত তাহলে বিশ্ব ব্যাংক এটা মনিটর করত এবং তখন এই ধরনের দুর্নীতি করার
সুযোগ থাকত না। এখন এই যে ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সেতুটা হচ্ছে এই সম্পর্কে
কোনো হিসাব চাইতে পারব? চাইলে সরকার দেবে?”
তিনি বলেন, “এই দেশের কত টাকা বছরে লুট
হয় তার কোনো হিসাব আছে? একটা হিসাব সরকারি ব্যাংকগুলো দিয়েছে, ব্যক্তি মালিকানায়
যে সমস্ত ব্যাংক দিয়েছে, তারা বলেছে যে, প্রত্যেক বছর অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে
পাচার হয়ে যায়। আরও হুন্ডির মাধ্যমে যায়, ওটা সোয়া লক্ষ কোটি টাকা। সোয়া লক্ষ কোটি
টাকা বাদ দেন, ৭০ হাজার কোটি টাকা যে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায়, ওই টাকা হলে প্রত্যেক
বছর একটা করে পদ্মাসেতু বানাতে পারি। এত গল্প কেন? একটা স্প্যান বসান আর হুলুস্থুল
লাগিয়ে দেন। অথচ প্রত্যেক বছর একটা করে পদ্মাসেতু পাচার হয়ে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনো
ব্যবস্থা নেন না।”
মান্না বলেন, “শেখ হাসিনা বলেছিলেন,
কারা কারা বিদেশের ব্যাংকে টাকা জমা রাখে তা আমি জানি। জেনে আপনি কি পকেটের মধ্যে রেখে
দিয়েছেন? কারা কারা বিদেশি ব্যাংকে চুরি করে টাকা রাখে বলেন, তাদের হিসাব নেন। দুর্নীতি
দমন কমিশনকে লাগিয়ে দেন। যারা চোর, আমার টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেন।”
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ
আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান নাগরিক ঐক্যের এই নেতা।
বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব পরিষদের প্রথম
কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য গড়ি’ শীর্ষক
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সুভাষ চন্দ্র দাস।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,
সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা অর্পনা রায়, ইশরাক হোসেন,
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল
হক নূর প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।