রক্ষণশীলদের কাছ থেকে অনেক বাধা পেরিয়ে বিলটি নিম্নকক্ষে (কংগ্রেস অব ডেপুটিস অব স্পেন) পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ভোটে স্বেচ্ছামৃত্যুর বিলের পক্ষে পড়ে ১৯৮ এবং বিপক্ষে পড়ে ১৩৮ আইনপ্রণেতার ভোট। দুইজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এবার বিলটি উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হয়ে গেলেই তা আইনে পরিণত হবে। সিনেটে বিলটি পাস হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আর এমন হলে আগামী বসন্তেই নতুন আইন চালু হতে পারে।
ভীষণ সংকটাপন্ন এবং অক্ষম যেসব রোগী অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছেন,যাদের সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও আশা নেই; তাদেরকেই চিকিৎসকের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করার অধিকার দিতে এই আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে স্পেন।
স্বেচ্ছামৃত্যু বা ইউথানেসিয়া নিয়ে অনেক দেশেই উত্তপ্ত বিতর্ক আছে। কোনও কোনও দেশে স্বেচ্ছামৃত্যু বিতর্ক আদালতে গড়িয়েছে। তাছাড়া, ধর্মও আত্মহননকে সমর্থন করে না।
কিন্তু স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, “বহু মানুষকে অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে দেখেও সমাজের মানুষ হিসাবে আমরা নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকতে পারি না।”
স্পেনের এক আইনপ্রণেতাও স্বেচ্ছামৃত্যুর বৈধতা দেওয়াকে নাগরিক অধিকারের পক্ষে এক ধাপ অগ্রগামী পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেবেন রোগী নিজে, তাই এ সংক্রান্ত আইন নাগরিকদের জন্য আরও বেশি স্বাধীনতাই এনে দেবে বলে মত তার।
বিশ্বে এরই মধ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করেছে বেলজিয়াম, কানাডা, কলম্বিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডও স্বেচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো এবং ওরেগনসহ কয়েকটি রাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধতা পেয়েছে। আর একবছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে আইন পাস করেছে।