কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের (বাঘা যতীন) ভাস্কর্য ভাঙ্গার নিন্দা জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছে কমিটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সংবিধানের ২৪ ধারায় ভাস্কর্যসহ বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত স্মৃতি নিদর্শন, বস্তু ও স্থানসমূহ বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ থেকে রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হলেও সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
‘বিএনপি-জামায়াতের মদদে হেফাজত-খেলাফতের জঙ্গি, মৌলবাদী সন্ত্রাসী নেতারা সারা দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি দিয়ে যেভাবে ওয়াজের নামে সন্ত্রাস ও উন্মাদনা ছড়াচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায়’ বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে বলে মনে করে নির্মূল কমিটি।
বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া গ্রামে বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শহীদ বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্মস্থানে স্থাপিত আবক্ষ ভাস্কর্যটির মুখমণ্ডলের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করছে, সংবিধানের ২৪ ধারা লঙ্ঘনকারী সেই ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে নতুন আইন করারও দাবি জানিয়েছে নির্মূল কমিটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সারা দেশে ভাস্কর্য ভাঙার পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তরা কয়েক হাজার বছরের গৌরবের ইতিহাস ও সম্প্রীতির যাবতীয় নিদর্শন ‘ইসলামবিরোধী’ ফতোয়া দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বা জিয়াউল হকের পাকিস্তান বানাবে।
“এভাবেই তারা ’৭১-এর শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবে। মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তির আওতায় না এনে সরকার যদি এদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার পথ গ্রহণ করে- তা দেশ ও জাতির জন্য সমূহ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।”
মুজিববর্ষে ঢাকার ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা শুরু করেন কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠনের জোট হেফাজতে ইসলামের নেতারা।
হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক ভাস্কর্য তৈরি করা হলে তা ‘বুড়িগঙ্গায় ফেলার’ হুমকি দেন। এরপর চট্টগ্রামে এক ধর্মীয় সভায় হেফাজত আমির জুনাইদ বাবুনগরী যে কারও ভাস্কর্য তৈরি করা হলে ‘টেনেহিঁচড়ে’ ভেঙে ফেলার হুমকি দেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদের মধ্যেই ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার একটি নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই ঘটনায় স্থানীয় এক মাদ্রাসার দুই ছাত্র এবং দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই ভাঙচুর করা হল ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ভাস্কর্য।