ক্যাটাগরি

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে গণশুনানির উদ্যোগ

উদ্যোগের অংশ হিসাবে আগামী ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি সরকারি
ও বেসরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দাম পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে
গণশুনানি হবে।

শুনানিতে পাওয়া যুক্তিতর্ক ও তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত
হবে সিলিন্ডারজাত এই জ্বালানি গ্যাসের দাম।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের এই গ্যাসের দাম কয়েক দফা কমলেও দেশে গণশুনানি করে দাম পুনঃনির্ধারণ করেনি বিইআরিসি।

এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে বিইআরসির কাছে বার বার দাবি
জানিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হয় ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন
অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আদালতের নির্দেশেই দাম নির্ধারণের বিষয়টি
আলোচনার টেবিলে গড়ায়।

গত মঙ্গলবার বিইআরসির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাই
কোর্টের আদেশে বাস্তবায়নে এলপিজির মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ১৪, ১৭ ও ১৮
জানুয়ারি গণশুনারি দিন ঠিক করা হয়েছে। গণশুনানির সময়, পদ্ধতি ও স্থান যথাসময়ে জানান
হবে।

শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে
৪ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত বক্তব্য ও মতামত কমিশনে জমা দিতে হবে। এর বাইরে গণশুনানিতে
অংশ নিতে চাইলে ৪ জানুয়ারির মধ্যে নাম তালিকাভূক্ত করতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে
বেক্সিমকো, ওমেরা, বিএম, যমুনা, বসুন্ধরাসহ ১০টির বেশি কোম্পানি বাজারে এলপিজি বিক্রি
করছে। বর্তমানে ১২ কেজি গ্যাসের একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা
দামে। সরকারি এলপিজির দাম ৭০০ টাকা রয়েছে।

সিলিন্ডারের দাম পুনঃনির্ধারণের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই বিইআরসিতে আবেদন করে ক্যাব। ওই আবেদনটি নিষ্পত্তি করেনি বিইআরসি।

পরে ক্যাব হাই কোর্টে রিটিআবেদন করে। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালত
এক রুল জারি করে। তাতে এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে বিইআরসি চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলে।

এরপর গত প্রায় চার বছর বিভিন্ন সময় আদালত আদেশ দিলেও বিইআরসি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে
কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

সর্বশেষ ক্যাবের আবেদনে গত ২৫ অগাস্ট হাই কোর্ট বিইআরসির চেয়ারম্যানকে আদেশ দিয়ে বলে ৩০ দিনের মধ্যে গণশুনানি করে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করতে। এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় বিইআরসি চেয়ারম্যানকে। কিন্তু বিইআরসি দাম নির্ধারণ না করেই গত ১৭ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দেয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতার
কারণে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও এলপিজির দাম নির্ধারণ করা যায়নি বলে বিইআরসির দেওয়া
বক্তব্য শুনে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন বিচারক।

এরপর আদালতে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আদালত অবমাননার
রুল থেকে অব্যাহতি চান বিইআরসি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল। এরপরই গণশুনানির
বিজ্ঞপ্তি এল।

এ সংক্রান্ত খবর

আদালত অবমাননা: নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা বিইআরসি চেয়ারম্যানের

এলপিজি সিলিন্ডার: বিইআরসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

এলপিজির দাম ঠিক না হওয়ায় আদালতের উষ্মা