নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, একাধিক কোম্পানি ভারতে তাদের টিকার জরুরি অনুমোদনের আবেদন করেছে। ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ হয়তো তাদের কেউ ‘ড্রাগ রেগুলেটরের’ অনুমোদন পেয়ে যাবে।
বিবিসি জানায়, দুইটি কোম্পানি এরই মধ্যে ভারতে তাদের কোভিড টিকার অনুমোদন পেতে আবেদন করেছে। আরো ছয়টি কোম্পানির টিকা ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের’ নানা ধাপে রয়েছে। দেশটি আগামী অগাস্টের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চায়।
ভারতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি মানুষের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন এক লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।
যে টিকাগুলো অনুমোদন পেতে পারে:
ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট ও তাদের অংশীদার ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ‘কোভিশিল্ড’ এবং ভারত বায়োটেক ও দ্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিসিন রিসার্চ (আইসিএমআর) এর আবিষ্কার ‘কোভ্যাসিন’ টিকা দুইটি এরইমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে।
এ দুটিসহ আরো যে ছয়টি টিকার নানা ধাপের ‘ট্রায়াল’ চলছে তার চারটিই দেশীয় কোম্পানির তৈরি বলেও জানান কর্মকর্তারা।
কোভিড টিকাদান কর্মসূচির জন্য ভারতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
ভারত বিশ্বের নানা কোম্পানির কাছ থেকে লাখ লাখ ডোজ টিকা কিনতে ‘আগাম বুকিং’ দিয়ে রেখেছে বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ পেয়েছে তার সঙ্গে দ্বিমত পোষন করেন ওই কর্মকর্তারা। বলেন, দেশীয় কোম্পানির হাতে যে পরিমাণ টিকার মজুদ আছে সরকার তাতেই সন্তুষ্ট।
তারা বলেন, ‘‘ভারত সরকার বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে টিকার বিষয়ে যোগাযোগ রাখছে। তাদেরকে আমাদের কি পরিমাণ টিকা লাগবে সেটা জানিয়ে রেখেছে এবং তারা কি পরিমাণ টিকার যোগান দিতে পারবে সে বিষয়ে খোঁজখবর করছে।
‘‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের সেরাম ইন্সটিটিউট এবং ভারত বায়োটেক মিলেই মাসে সাড়ে ছয় কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করতে সক্ষম।”
কবে নাগাদ টিকা দেওয়া শুরু হবে, কারা পাবেন:
আগামী জানুয়ারি থেকে অগাস্টের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। দেশটির প্রায় এক কোটি স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সেনাসদস্য, পৌরকর্মী ছাড়াও মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখসারিতে থাকা পেশাজীবীরা আগে টিকা পাবেন।