শনিবার রাতে বাংলোদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত ‘নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়ার ওপর পর্যালোচনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু গুণগত মানসম্পন্ন কতটুকু সে প্রশ্ন রয়েছে। তাই এই খাতে এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা।
“এজন্য আমাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের খাদ্য চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসবে।”
নতুন কৃষিবিদদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যেহেতু জমির পরিমাণ কম। তার মধ্যে প্রতিবছর আরও কমে যাচ্ছে। তাই যত নতুন প্রযুক্তি আসছে তা যেন কৃষি মাঠে যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
দেশে এখন প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঝুঁকি হলেও আমাদের দুধ আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কারণ এখন গ্রামের অনেক উদ্যোক্তা আছেন যিনি দৈনিক ৩০ লিটার দুধ উৎপাদন করছেন, কিন্তু দাম না পাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দেশে দুধের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হলে আমদানি বন্ধ করার ঝুঁকি নিতে হবে বলে আমি মনে করি।”
দেশে উন্নত গো খাদ্য উৎপাদনের জন্য ভুট্টা চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এতে মানুষ পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি ভুট্টা গাছ থেকে গো খাদ্য তৈরি করা যাবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব মিজানুল হক কাজল।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজার আসার সমুদ্র পথে ভার্চুয়াল এই সেমিনারে যুক্ত হয়ে বলেন, “কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায় তা আমরা চিহ্নিত করছি। ইতোমধ্যেই অনেক কৃষি পণ্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইন বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
কোন এলাকাগুলোতে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হলে বেশি সংখ্যক কৃষক লাভবান হবেন, সে বিষয়ে কৃষিবিদদের কাছ থেকে পরামর্শ চান তিনি।
অনুষ্ঠানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি খাতের পরিকল্পনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম।
তিনি বলেন, “অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রতি বছর অন্তত ৮ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য ৪ শতাংশ হারে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে ধান উৎপাদনকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। ২০২০ সালের ৩ কোটি ৯২ লাখ টন ধান উৎপাদনকে ৪ কোটি ১৭ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
দুধ উৎপাদনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে দুধ আমদানি বন্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেন তিনি। দুধ আমদানি অব্যাহত রেখে দুধের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন শামসুল আলম।
তিনি বলেন, “দেশে অনেক দিন ধরে মাছের উৎপাদন বাড়লেও সম্প্রতি মাছের উৎপাদন কিছুটা কমেছে। অনেক ক্ষেত্রেই মাছের দাম না পাওয়ার কারণেই মাছের উৎপাদন কমছে।”
দাম পাওয়ার জন্য মাছ রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ওশন ইকোনমি) ওপর আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন শামসুল আলম।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বনভূমি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানি কৃষি কাজে ব্যবহার ‘অত্যন্ত বাজে হচ্ছে’ উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, “বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে কৃষি কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বড় বড় নদীগুলোতে পানি ধরে রেখে শুস্ক মৌসুমে ব্যবহারের পরিকল্পনাও নতুন পরিকল্পনায় নেওয়া হয়েছে।”