ক্যাটাগরি

তরঙ্গ নবায়নে ভ্যাটের টাকা দিতেই হচ্ছে রবিকে

৪৬০ কোটি টাকা জমা থাকবে বিটিআরসির কাছে চূড়ান্ত ফয়সালা আদালতে

মোবাইল ফোন অপারেটর রবির তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) নবায়নের আগে ফের সামনে চলে এসেছে বহুল আলোচিত ভ্যাট ইস্যু। রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর এয়ারটেলের নামে বরাদ্দকৃত স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ তা নবায়ন হওয়ার কথা। এই ফির ওপর ১৫ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ হওয়ার কথা।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রবিকে ভ্যাটের অর্থ পরিশোধের জন্য চিঠিও পাঠিয়েছে তরঙ্গ নবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন)। শেষ পর্যন্ত ভ্যাটের অর্থ পরিশোধে বিটিআরসির সঙ্গে রবির সমঝোতা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, রবি বিটিআরসিকে ফি প্রদানকালে ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করবে। তবে ঐ অর্থ বিটিআরসির কাছেই থাকবে। আইনি সমাধান কিংবা এনবিআরের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পরই কেবল এ অর্থ এনবিআরকে দেবে বিটিআরসি।

এদিকে তার আগেই ভ্যাট ইস্যুতে আদালতে গেছে রবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রবি এই ইস্যুতে রিট দায়ের করেছে। আগামীকাল ঐ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র ইত্তেফাককে বলেন, ‘রবি ভ্যাট ইস্যুতে মামলা করেছে। আমাদের উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। এর আগে আমরা রবিকে তরঙ্গ নবায়নের ফি পরিশোধকালে ভ্যাটের অর্থ পরিশোধের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম।’ এ পরিস্থিতিতে রবির তরঙ্গ নবায়নের কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে যে তারা (রবি) ভ্যাটের টাকা আমাদের কাছে দেবে। ঐ টাকা এখানে জমা থাকবে। মামলা নিষ্পত্তি হলে কিংবা সমঝোতা হলে টাকা আমরা ভ্যাট অফিসকে দেব।’ তিনি বলেন, যেহেতু আইনি জটিলতা রয়েছে এবং মামলা হয়েছে, সেজন্য এ পথে যেতে হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, মামলা করার অধিকার তো তাদের (রবি) আছেই। তবে তারা বিটিআরসির কাছে টাকা পরিশোধ করলেও তা মন্দের ভালো।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের অন্য রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলো যথানিয়মেই ভ্যাট আদায় করে এনবিআরের কাছে জমা দিচ্ছে।

রবিসহ মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ইস্যু নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতভেদ। তরঙ্গ ইস্যুতে এখনো প্রায় ৭০ কোটি টাকার অনাদায়ী ভ্যাট নিয়ে ভ্যাট বিভাগ চিঠি চালাচালি করছে। এর মধ্যেই নতুন করে স্পেকট্রাম নবায়নে বড় অঙ্কের ভ্যাট আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নতুন করে রবির তরঙ্গ বরাদ্দে ৪৬০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়যোগ্য হয় বলে দাবি এনবিআরের। অতীতে নানা ছুতোয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ। ফলে এবার তরঙ্গ নবায়নের অনুমোদনের আগেই সতর্ক অবস্থানে যায় এনবিআর। ইস্যুটি নিয়ে বেশ কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয় বিটিআরসির সঙ্গে। সূত্র জানায়, এই জটিলতার কেন্দ্রবিন্দু মূলত বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধন ইস্যু। বিটিআরসি সরকারি রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের ভ্যাট নিবন্ধন দিতে চাইছে না এনবিআর। ফলে বিটিআরসি এনবিআরের ভ্যাট আদায় করতে চাইছে না। গত ফেব্রুয়ারিতে বিটিআরসি এক চিঠিতে এনবিআরকে জানিয়েছিল, তারা (বিটিআরসি) কেবল তাদের পাওনা আদায় করবে আর ভ্যাট-সংক্রান্ত ইস্যুতে এনবিআর ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর না থাকায় ভ্যাটের অর্থ আদায় করা যাবে না বলে বিটিআরসির ব্যাখ্যা যৌক্তিক নয়। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান। একইভাবে বিআরটিএ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আরজেএসসি (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধক), বিআরটিসিও (বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ করপোরেশন) রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান। তারা তো ভ্যাট আদায় করে সরকারের কোষাগারে জমা দিচ্ছে। তারা ভ্যাট আদায় করলে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান হয়ে বিটিআরসি কেন করবে না?

ইত্তেফাক/এএএম