২০১৫ সালের ছন্দপতন এবং পরে রঙ থেকে রঙ
বাংলাদেশ হিসাবে অভিযাত্রা শুরুর পর পেরিয়েছে ছয় বছর। বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রির
চলমানতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার প্রয়াসে অবিচল রঙ বাংলাদেশ অন্যদের মতোই এক দুঃসহ সময়ের
মুখোমুখি।
মহামারীর সময়ে ব্যবসা মন্দা। তবুও এই
ক্রান্তিকালে রঙ বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবেই ভাবতে চায়। প্রতীক্ষা করতে চায় ইতিবাচক ভবিষ্যতের।
সমান উদ্দীপনায় রাঙাতে চায় সময়কে; যে ব্রত নিয়ে ২৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল চারজন তরুণের
স্বপ্নযাত্রা।
ফিরে দেখা
নব্বই দশকের শুরুতেই চার বন্ধু মিলে টুকটাক
কাজ করতে করতেই পরিকল্পনা। সেই ভাবনার সোপান ধনেই ফ্যাশন হাউজ রঙ’য়ের যাত্রা শুরু ১৯৯৪
সালে। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার শান্তনা মার্কেটের ছোট পরিসরে। বয়ে যাওয়া সময়ে চার থেকে
হয়ে যায় দুই। বাকি দুজন এগিয়ে নিতে থাকে রঙ’কে। দেশের ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের ভালোবাসায়
নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের অন্যত্রও শাখা বিস্তার হয়। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত রোধ করা যায়নি ভাঙন।
রঙ থেকে রঙ বাংলাদেশ
পরিস্থিতিকে মেনে নিতেই এক সময় রঙ হয়েছে
রঙ বাংলাদেশ। ঠিক পাঁচ বছর আগে। ২০১৫ সালে। ছন্দপতনের বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠে, সূচনাদিনের
প্রত্যয়েই রঙ বাংলাদেশ এগিয়েছে। অবশ্য সেটা সম্ভব হয়েছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রঙ অনুরাগীদের
সমর্থন আর পৃষ্ঠপোষণার জন্য।
তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই আত্মপ্রকাশ রঙ
বাংলাদেশ-এর। এই চলমানতায় আঙ্গিক পরিবর্তনের পরেও লক্ষ্যে অবিচল থেকে প্রধান নির্বাহী
সৌমিক দাসের সঙ্গে এক ঝাঁক নিবেদিত প্রাণ কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন করে বিকশিত
হয়েছে রঙ বাংলাদেশ।
ফ্যাশন অনুরাগীদের ভালোবাসায় শাখা ছড়িয়েছে
দেশের নানা প্রান্তে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে ২০ ডিসেম্বর পূর্ণ
করেছে ২৬ বছর। দেশীয় ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম এই ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন
প্রান্তে পৌঁছে গেছে। আউটলেটের সংখ্যা এখন ২৬।
নারায়ণগঞ্জ, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান, বগুড়া,
বেইলী রোড, ওয়ারী, সীমান্ত স্কয়ার, যমুনা ফিউচার পার্ক, শান্তিনগর, মোহাম্মদপুর, চট্টগ্রাম,
সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, বাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল,
ঈশ্বরদী, রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়া এবং মাদারিপুরে রয়েছে রঙ বাংলাদেশ।
পাশাপাশি ডিজিটাল উৎকর্ষের সঙ্গে তাল
মিলিয়ে গড়ে উঠেছে রঙ বাংলাদেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, নিজস্ব ই-কর্মাস সাইট ও ফেইসবুকসহ
নানা সামাজিক মাধ্যম। ফলে দেশে-বিদেশের ক্রেতারা বাসায় বসেই পাচ্ছেন সকল সামগ্রী।
রঙ বাংলাদেশ-এর সাব ব্র্যান্ড
রঙ বাংলাদেশ বিভিন্ন বয়সের জন্য সমান
সচেতন। সেজন্যই মূল ব্র্যান্ডের অধীনেই রয়েছে ৪টি পৃথক সাব-ব্র্যান্ড। জ্যেষ্ঠদের জন্য
শ্রদ্ধাঞ্জলি, তরুণদের জন্য ওয়েস্ট-রঙ, ছোটদের জন্য রঙ জুনিয়র এবং বাংলাদেশকে দেশ এবং
দেশের বাইরে পরিচিত করাতে আছে আমার বাংলাদেশ।
শেষের এই ব্র্যান্ডটি আসলে উপহার সামগ্রী
বা স্মারক উপহারের; যাতে করে ভুবন মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় এক টুকরো বাংলাদেশ।
সৃজনে থিম নির্ভরতা
রঙ বাংলাদেশ বরবারই থিম নির্ভর কাজ করে
থাকে; তা সে উৎসবই হোক বা উপলক্ষ্য। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এগিয়ে চলেছে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ
পরিচ্ছন্নতা রঙ বাংলাদেশ সবসময়েই বজায়
রাখে। তবে মহামারীর কালে বিষয়টিকে আরও বেশি করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিক্রয়কেন্দ্র
খোলার অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিটি কেন্দ্র জীবাণুমুক্ত করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায়
রাখতে কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে এবং বিক্রয়কেন্দ্রের পরিসর অনুযায়ী ক্রেতাদের সংখ্যা
নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মাস্ক ছাড়া প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি আরোপ
করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর আউটলেটগুলোকে
জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি কাপড়ের প্যাকিং এবং উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্রান্তিতে নতুন রূপে
এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক বাস্তবতায় শুরু
করছে নতুন বছর। কোন সন্দেহ নেই বিপ্রতীপ সময়েই সূচনা হচ্ছে নতুন যুদ্ধের। ফলে নতুন
করেই সবকিছুর পরিকল্পনা করা হয়েছে, হয়েছে নতুন ব্র্যান্ডিং; বদলে গেছে এর লোগো। বলা
যেতে পারে নতুন রূপ পরিগ্রহ করতে চলেছে রঙ বাংলাদেশ।
রঙ বাংলাদেশ একান্তভাবে বিশ্বাস করে যাদের
নিয়ে এবং যাদের জন্য এই সৃষ্টিযজ্ঞ, তারা সবসময়ের মতোই সঙ্গী হবেন। এই দুঃসময়েও তাদের
যে সমর্থন মিলেছে তাতে রঙ বাংলাদেশ অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। অতএব সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই টিকে
থাকবে রঙ বাংলাদেশ।