বিশ্ববিদ্যালয়ের
জীব বিজ্ঞান অনুষদ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের পরীক্ষাগারে গত জুলাই মাস
থেকে চালানো এই গবেষণার ফলাফল
শনিবার গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
গবেষক
দলের সদস্য বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল হাসান ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, জিন বিন্যাস বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে
চট্টগ্রাম বিভাগে পাওয়া নমুনার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সৌদি আরব, তাইওয়ান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের
সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
আর
৩০টি জিন বিন্যাস বিশ্লেষণে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এ করোনাভাইরাসের জিন
কাঠামোতে ১২৬টি ভিন্ন ভিন্ন মিউটেশন মিলেছে। এর মধ্যে পাঁচটি
মিউট্যান্ট চট্টগ্রামে বেশি মাত্রায় ছড়িয়েছে বলে গবেষক দলের আরেক সদস্য মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ এম আবদুল্লাহ আল
মাসুদ জানিয়েছেন।
উদ্ভিদ
বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর
ফারুক রাসেল বলেন, কোন কোন এলাকা থেকে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস এসেছে এবং এখানে আসার পর কী ধরনের
মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন
হয়েছে, তা জানতে এই
গবেষণা শুরু করেন তারা।
“গবেষণার
মূল লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম বিভাগের কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সার্বিক
চিত্র তুলে আনা। সে লক্ষ্যে বিভাগের
১১ জেলার প্রত্যেক উপজেলা থেকে কোভিড পজিটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।“
প্রাথমিকভাবে
সংগ্রহ করা তিনশ নমুনা থেকে কয়েক ধাপে যাচাই শেষে ৪৬টি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিং এর জন্য নির্বাচন
করা হয়। তার মধ্যে ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং ৯৯ শতাংশের বেশি
উন্মোচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রতি জেলারই দু-তিনটি করে
নমুনা ছিল।
এর
মধ্যে ৩০টি নমুনার সব তথ্য বিশ্লেষণ
শেষে ১২টি নমুনার জিন বিন্যাস জিআইএসএআইডিতে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওমর ফারুক রাসেল।
সহযোগী
অধ্যাপক রবিউল বলেন, জেলা ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় তারা দেখেছেন, চট্টগ্রাম জেলার নমুনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইটালি, চেক রিপাবলিক, সৌদি আরব ও তাইওয়ান; নোয়াখালী,
লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার
নমুনার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপান; কুমিল্লা
ও চাঁদপুর জেলার নমুনার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চেক রিপাবলিক, ভারত ও জপান; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
নমুনার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সৌদি আরব ও ভারত; কক্সবাজার,
রাঙামাটি ও বান্দরবানের নমুনার
সাথে যুক্তরাষ্ট্র, সিয়েরা লিওন, জার্মানি, ইটালি, তাইওয়ান ও চেক রিপাবলিক
এবং খাগড়াছড়ি জেলার নমুনার সাথে অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ও তাইওয়ানের নমুনার
‘বেশি সাদৃশ্য’ লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণায়
পাওয়া মিউটেশনের তথ্য জানিয়ে আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন,
করোনাভাইরাসের যে পাঁচটি ভ্যারিয়েন্ট চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে
ছড়িয়েছে, সেগুলো হল- ORF1a এ
I1300F, S এ D614G,
ORF1b এ P314L, N এ R203K ও G204R।
এর মধ্যে
স্পাইক প্রোটিনের
(S) D614G মিউটেশন করোনাভাইরাসকে
অনেক বেশি সংক্রমাক করে তোলে। এই মিউটেশনটি
৩০টি নমুনাতেই মিলেছে বলে জানান এই গবেষক।
তিনি বলেন,
যেসব নমুনা তারা বিশ্লেষণ করেছেন, তাতে জিনের ভিন্ন ভিন্ন
স্থানে মোট ৮৬টি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন হলেও অ্যামাইনো এসিডে কোনো পরিবর্তন পাননি।
ওমর
ফারুক রাসেল বলেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্পাইক প্রোটিনকে ভিত্তি ধরে টিকা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বিশ্বে। স্পাইক
প্রোটিনের বিন্যাসে অন্য মিউটেশনের সাথে এমন পাঁচটি মিউটেশন পাওয়া গেছে, যেগুলো অন্য দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এই প্রথম শনাক্ত
হয়েছে।
এগুলো
হলো- S155I, N354S,
S477N, P681H, এবং
V1122L। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে যেসব মিউটেশন পাওয়া
গেছে, তার মধ্যে P681H একটি
বলে জানান তিনি।
গবেষক
দলের আরেক সদস্য মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরানুল হক বলেন, “আমরা
আশা করছি আমাদের উন্মোচন করা জিন বিন্যাস চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলায় ভাইরাসের প্রকৃতি, বিস্তার, উৎপত্তিস্থল, বৈচিত্র্য ও মিউটেশন এর
মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দেবে, যা ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে।”
অন্যদের মধ্যে
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান
বিভাগের শিক্ষার্থী মো. খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, আরিফ হোসাইন ও সজীব রুদ্র,
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শান্তা পাল এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের মো. ওমর ফারুক এ গবেষণায় সম্পৃক্ত ছিলেন।