সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) ওই প্রতিবেদন বলছে, আগের পূর্বাভাসে দেওয়া সময়ের ৫ বছর আগেই চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাবে।
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চীনের ‘দক্ষতার’ কারণেই সামনের বছরগুলোতে তাদের তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় বেশি হবে।
ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।
সিইবিআর প্রতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস প্রকাশ করে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের এ বছরের প্রতিবেদনে জানায়, চীন বিশ্বের মধ্যে কোভিড-১৯ এর আঘাতে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলেও তড়িৎ ও কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ওই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এর ফলে তাদেরকে ইউরোপের মতো একের পর এক লকডাউনে যেতে হয়নি, যা মহাদেশটির অর্থনীতিকে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিশ্বের অন্য সব বড় অর্থনীতির দেশের মতো চলতি বছর চীনকে মন্দায়ও পড়তে হয়নি, উল্টো ২০২০ সালে দেশটির ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণাও করা হচ্ছে।
বিপরীতে মহামারীর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির হয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। দেশটিতে কোভিড-১৯ এরই মধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বছরজুড়ে নানান প্রণোদনা দিলেও নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দেশটির প্রায় দেড় কোটি কর্মহীনকে বেকারভাতা ছাড়াই নতুন বছরে প্রবেশের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
২০২১ সালে মহামারী কাটিয়ে উঠতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বছরে ১ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়বে এবং পরের বছরগুলোতে তা কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছে সিইবিআর।
তুলনায় চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হারে এবং পরের ৫ বছর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়বে, বলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
এভাবে এগিয়ে চীন ২০২৩ সালের মধ্যে ‘উচ্চ আয়ের দেশে’ পরিণত হবে।
কেবল করোনাভাইরাস মোকাবেলাই নয়, শিল্পায়ন নিয়ে আগ্রাসী নীতির কারণেও চীনের অর্থনীতি ব্যাপক উপকৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিইবিআরের ডেপুটি চেয়ারম্যান ডগলাস ম্যাকউইলিয়ামস।
প্রতিবেদনে ব্রেক্সিট পরবর্তী যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে ৪ শতাংশ এবং ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ভারত ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যকে টপকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হলেও কোভিড-১৯ মহামারী তাদেরকে ফের যুক্তরাজ্যের নিচে নামিয়ে এনেছে; দেশটি ২০২৪ সালের আগে যুক্তরাজ্যকে টপকাতে পারছে না বলেই অনুমান সিইবিআরের।
তবে এরপর থেকে ভারতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে; ২০২৭ সালের মধ্যে তারা জার্মানিকে টপকাবে আর ২০৩০ সালে তারা জাপানকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে, পূর্বাভাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির।