মোটর সাইকেল চাপায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিজা
বেগমের মারা ঘটনা তুলে ধরতে রোববার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, “বিনা ভোটে ক্ষমতায়
থেকে আওয়ামী সরকার এখন বেপরোয়া। ওরা নির্বাচন ঘোষণা করবে কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন
হতে দেবে না। বিরোধীদলের কেউ যদি সাহস করে নির্বাচনে নামে তাহলে তার ওপর নেমে আসে নির্মম
নির্যাতনের খড়গ।
“নিশিরাতের ভোটের সরকার
ও বেহায়া নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনায় এখন চলছে নির্বাচনী সার্কাস।আগের রাতে ভোট
হলেও, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না গেলেও অথবা কোনো কেন্দ্রে শতভাগের বেশি জোরপূর্বক ভোট
কাস্টিং করলেও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বয়ান একই যে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।”
রিজভী বলেন, “এদেশ
থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নামক শব্দটি চিরতরে উচ্ছেদের পর কোনোভাবেই কেউ যেন এই বিষয়ে টু-শব্দ
করতে না পারে সেজন্য দেশব্যাপী বিভিন্ন জনপদে সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডারদের মোতায়েন করেছে
বর্তমান সরকার। বিরোধী দলের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তার পক্ষে কেউ প্রচারণা চালাতে
গেলে তাকে জীবন হারাতে হয় কিংবা চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়। যার শিকার হলেন
গোপালপুর পৌর মহিলা দলের সভাপতি হাবিজা বেগম।
“আওয়ামী সন্ত্রাসীদের
দ্বারা সংঘটিত এই বর্বরোচিত ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র-নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমি হাবিজা বেগমের হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
দাবি করছি।”
সম্প্রতি গোপালপুর
পৌরসভায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিজা বেগম মোটর সাইকেল চাপায় গুরুতর আহত
হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা যান।
রিজভী বলেন, “নির্বাচন
কমিশনের তো সব দলের আস্থাভাজন হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনকে সবার পছন্দ করতে হবে। এটা
একটি সাংবিধানিক সংস্থা। কিন্তু শুধু আওয়ামী লীগই এই ইসিকে পছন্দ করে কেন এটা একটা
বিরাট প্রশ্ন জনগণের কাছে। কারণ আওয়ামী লীগের নির্বাচন নিয়ে, গণতন্ত্র ধ্বংস নিয়ে যে
অপকর্মগুলো করেছে, তার প্রত্যেকটার বৈধতা দিয়েছে এই নির্বাচন কমিশন। একেবারেই শেখ হাসিনার
চাপরাশির ভূমিকা পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন
কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সেই অভিযোগ খণ্ডাচ্ছে আওয়ামী
লীগ। তার মানে একেবারে সুস্পষ্ট প্রমাণিত যে, আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের প্রধান তিনি
তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন। যাতে তাদের সকল
অপকর্মকে উনি বৈধতা দেন।
“এই কারণে নির্বাচনের
বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা হলেই আওয়ামী লীগ তার জবাব দেয়। গণতন্ত্র ধ্বংসের নব্য বাকশালী
সরকার ও তাদের মোসাহেব নির্বাচন কমিশনের অপকর্ম শয়তানকেও টপকে গেছে। এই অপকর্মের বিচার
একদিন হবেই।”
পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের
দৌরাত্মের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আমি কুড়িগ্রাম থেকে আসলাম। সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি
ভঙ্গ করে অনেক রাত পর্যন্ত মাইক বাজাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। অথচ বিএনপির প্রার্থীকে
প্রতি পদে পদে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণার মদন, পাবনাসহ বিভিন্ন
জায়গায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অপকর্ম করছে। ওদের কাজ হচ্ছে নির্বাচন করা নয়, ওদের
কাজ হচ্ছে বিরোধী দল বিএনপির মেয়র প্রার্থী যে আছেন, তাকে ঠেকাও।”
নয়া পল্টনে বিএনপির
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা
আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।