সিএনএন জানায়, সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রথম পাতায় ওই সম্পাদকীয় ছাপা হয়। ট্রাম্পের বিশাল এক ছবির সঙ্গে লেখা “জনাব প্রেসিডেন্ট…পাগলামি বন্ধ করুন। আপনি নির্বাচনে হেরে গেছেন। এখন কিভাবে নিজের পারস্পর্য রক্ষা করবেন তা এখানে আছে।”
এখানেই শেষ নয়। ওই সম্পাদকীয় লেখা শুরু হয় এভাবে, ‘‘জনাব প্রেসিডেন্ট, অন্ধকার এ প্রহেলিকা শেষ করার সময় হয়েছে। আপনি একটি অগণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানের আশায় উল্লাস করছেন।”
নিউ ইয়র্ক পোস্ট আমেরিকার মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মর্ডকের মালিকানাধীন পত্রিকা। এই প্রথম মর্ডকের মালিকানাধীন কোনও সংবাদ সংস্থা ট্রাম্পের সমালোচনায় মেতেছে বা তার থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে।
মর্ডকের ফক্স কর্পের মালিকানাধীন ‘ফক্স নিউজ’ এর আগে অবশ্য জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলে মেনে নয়। যদিও টেলিভিশন চ্যানেলটির আরেকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের নির্বাচনের ফল মেনে না নেওয়ার পক্ষে কথা বলা হয়।
নিউ ইয়র্ক পোস্টেও এর আগে ট্রাম্পের পক্ষে খবর ছাপা হয়েছে, বা ট্রাম্পের বিপক্ষে যায় এমন খবর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ সম্পাদকীয়তে বেশ কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করা হয়েছে।
এমনকী এবারের ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ভোটে ‘কারচুপির’ অভিযোগ ট্রাম্প এখনও করে যাচ্ছেন, যদিও তার আইনি দল এখন পর্যন্ত ভোট কারচুপির পক্ষে শক্ত কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
তারপরও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসায় এবং নির্বাচনের ফল এখনও মেনে না নেওয়ায় নিউ ইয়র্ক পোস্ট তার তীব্র সমালোচনা করেছে।
পত্রিকাটি ট্রাম্পের নির্বাচনী আইনজীবী সিডনি পাওয়েলকেও ‘উন্মাদ’ বলেছে। আরও বলা হয়েছে, ‘‘আমরা বুঝতে পারছি, জনাব প্রেসিডেন্ট, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণে আপনি ভীষণ রেগে আছেন। কিন্তু এখনও সেই একই পথে চলা ধ্বংসাত্মক।”
“আপনাকে স্বীকৃতি দেওয়া, আপনাকে সমর্থন দেওয়া একটি পত্রিকা হিসেবে আমরা আপনাকে বলতে চাই: যদি আপনি আপনার প্রভাবকে আরও সুদৃঢ় করতে চান, এমনকী যদি ভবিষ্যতে ফিরে আসার মঞ্চ তৈরি করতে চান তবে আপনাকে জেদ নিয়ে অবশ্যই আরও ফলপ্রসু কিছু করার দিকেই এগুতে হবে।”
সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পকে তার মেয়াদের শেষ কয়েকদিন ভোট কারচুপি নিয়ে অভিযোগ না করে বরং জর্জিয়ায় সিনেটের দুইটি আসনের নির্বাচনে যেন রিপাবলিকান প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে তার জন্য লড়াই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। নাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাবে।
ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ তাদের সম্পাদকীয়র শেষে এও বলেছে, “ক্ষমতায় থাকার শেষ দিনগুলোতে যদি আপনি সব ধ্বংস করার প্রয়াস চালিয়ে যান, তাহলে একজন বৈপ্লবিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন নৈরাজ্যবাদী হিসেবেই আপনাকে ভবিষ্যতে মানুষ স্মরণ করবে।”