মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে আবার যাতে মাদক কারবারে জড়িত হতে না পারে, সে বিষয়ে কী করা যায়, সে পরামর্শও মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
মাদক বিক্রেতাদের জামিন পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেখে বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা ওঠে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামিন পাওয়া সকলের আইনি অধিকার। কারও জামিন বন্ধ করতে আমরা বলতে পারি না।
“তবে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এটা কীভাবে বন্ধ করা যেতে পারে, তার উপায় খুঁজতে বলেছি। মাদক বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্ত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা/সরবরাহ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামিন দিলে তো কিছু করার নেই। এক্ষেত্রে তদন্ত সঠিকভাবে করে যে অপরাধ সেই অনুযায়ী অভিযোগ দাখিল হয় এবং সাক্ষ্য প্রমাণগুলো যাতে যথাযথ হয় এবং দ্রুত যাতে বিচার শেষ হয় সেই বিষয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।“
তিনি বলেন, “যারা মাদকের মামলায় কারাবন্দি আসামি, তাদের বার বার কোর্টে হাজিরা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবের সাথে সাক্ষাৎ হয় সেখানে মাদকের লেনদেনের সুযোগ থাকে। এটা যাতে না হয় সেই জন্য হাজিরা বন্ধ রেখে বিচার কার্য পরিচালনায় কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে। এটি সম্ভব কি না, তা আইন মন্ত্রণালয় ও উচ্চতর আদালতের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।”
ডোপ টেস্ট বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পথে জানিয়ে কমিটির সভাপতি টুকু বলেন, “মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিধিমালায় গণপরিবহনের চালকসহ সকল স্তরের শ্রমিকদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডোপ টেস্টের নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি বলেছি ১৭ কোটি মানুষকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা জরুরি।”
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুর করায় সর্বোচ্চ ঘৃণা প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।