মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা
সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া প্রত্যেকের নাম
ইতিহাসে আসা উচিত। আমাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে স্মরণ
করি না। আমরা এক ব্যক্তির সম্পূর্ণ দেশে পরিণত করেছি।
“আমাদের সৈনিকরা জীবন দেন দেশরক্ষার
জন্য, নাম হয় সেনাপ্রধানের।
ইতিহাস সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষ আর নাম হয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের। সেই কারণেই আজকে
দেশে এই অবস্থা। যারা আমাদের এই স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রেখেছেন প্রত্যেকটা
লোকের নাম আমাদের পাঠ্যপুস্তকে আসা উচিত।”
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ
টেনে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, “আমাদের
মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তিন জায়গায়। একটা ভারতের মাটি থেকে যেখানে আমরা অনেকেই ছিলাম।
সেটা অনেকক্ষেত্রে নিরাপদ ছিল। ভারতের মাটি থেকে এসে যুদ্ধ করে আবার ফিরে গেছি।
দ্বিতীয় যুদ্ধটা হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে যেটা সিরাজ শিকদার করেছেন, আবদুল মান্নান ভুঁইয়ারা করেছেন, জুনুরা করেছেন, কাদের সিদ্দিকী করেছেন।”
তিনি বলেন, কাদের সিদ্দিকীর যে
সুবিধাটা ছিল তিনি ভারতের সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন। তারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে
যুদ্ধ করেছেন। আজকে সেই সিরাজ শিকদার যার অবদান অনস্বীকার্য যিনি দেশকে
স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করেছেন তাকে এই দেশের মাটিতে সরকারের
হাতেই মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস সঠিকভাবে প্রণয়নের দরকার আছে।”
মুক্তিযুদ্ধের
আত্মত্যাগকারীদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে মারা গেছে ২ লাখ ৬৯
হাজার। এটা কিন্তু বিএনপির হিসাব না। এই হিসাবটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
আমলের। উনার পিএস ছিলেন ড. এম এ সাত্তার। একবার তিনি প্রশ্ন করলেন- বঙ্গবন্ধু আপনি
যে ৩০ লাখের কথা বলছেন সেটার হিসাব। কেন? এটা তো তোরাই কইছোস, আমি তো দেশেই ছিলাম না। আমি তো তোদের
কথায়…”
“তখন উনার (বঙ্গবন্ধু) মনে
সন্দেহ ছিল. এই বিষয়ে এরপর একটা সুরাহায় আসা উচিত। পহেলাবারে যে হিসাবটা করলেন
সেটা ছিলো মাত্র ৬৭ হাজার। কোনো সন্দেহ নেই, এতে ভুল আছে। এর তৃতীয় যে হিসাবটা
হলো- ইউনিয়নভিত্তিক ২ লাখ ৬৯ হাজার। বঙ্গবন্ধু যেটা দেখলেন কোথায ৩০ লাখ আর কোথায়
২ লাখ …. এবং এই হিসাবটা এখনো এখনো এক ব্যক্তি বেঁচে আছেন মোহাম্মদ
আলী সিএসপি। উনি ওই কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। এই যে নাম যে প্রকাশ হচ্ছে না, একটা জাতির ৩০ লাখ হোক আর তিন লাখই হোক
প্রত্যেকের নাম ইতিহাসে আসা উচিত।”
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লন্ডনে থেকে বিচারপতি আবু সাইয়িদ চৌধুরী, ফজলে হোসেন আবেদের অবদানের
কথাও বলেন ডা. জাফরুল্লাহ।
সেগুন বাগিচায় ঢাকা
রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও
আমাদের জাতীয় স্বার্থ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক
আবদুল লতিফ মাসুম।
সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল
ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের
সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম
মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি ইউনুস
মৃধা বক্তব্য রাখেন।