ক্যাটাগরি

সমালোচনার পাশাপাশি প্রশংসাও করুন: তথ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ভালো কাজের প্রশংসা হলে মানুষ ভালো
কাজ করতে উৎসাহিত হবে। সেকারণে সকলের প্রতি অনুরোধ করব, সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের
প্রশংসাও করবেন। না হলে রাষ্ট্র-সমাজ পিছিয়ে পড়বে।”

বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন,
“আমাদের দেশে যেভাবে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে, সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ
করতে পারে, অন্য কোনখানে সেভাবে করা যায় না।

“যুক্তরাজ্যে কোনো ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে অনেকে আদালতে
অভিযোগ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জরিমানাও গুনতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা সমালোচনা করার সংস্কৃতিকে পছন্দ করেন। দায়িত্বে থাকলে সমালোচনা সহ্য করতে হবে।”

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন,
“টেলিভিশনের টক-শোগুলো শুনুন, সেখানে সরকারকে কী ভাষায় সমালোচনা করা হয়। বিএনপির ফখরুল
সাহেব সকালে সরকারের সমালোচনা কড়া ভাষায় করেন। আর বিকালে রিজভী সাহেব কথা বলেন, আর
বিকালে প্রেস ক্লাবে গয়েশ্বরবাবুরা কোনো অনুষ্ঠানে সমালোচনা করে বলেন, তাদের কথা বলতে
দেওয়া হচ্ছে না।

“আমরা মনে করি এই সমালোচনা থাকতে হবে। সমালোচনা না থাকলে
গণতন্ত্র নষ্ট হয়, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।”

তিনি বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের
কোনো একটা স্তম্ভ ঠিকমতো কাজ না করলে এর ভিত নষ্ট হয়ে যায়। সেটি মাথায় রেখেই মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং এর সাথে যারা যুক্ত আছেন তারা যাতে
স্বাধীনভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন সেজন্য কাজ করছেন।”

করোনাভাইরাস মহামারীকালে দেশে মূলধারার গণমাধ্যম বলিষ্ঠ
ভূমিকা রাখায় সুবিধাবাদীরা তেমন বেশি সুবিধা করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

“করোনাকালে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলেও সাংবাদিকরা কাজ করে গেছেন।
পৃথিবীতে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে একটি মহল ওঁৎ পেতে থাকে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার
জন্য। করোনাকালে বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এর বিপরীতে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম
বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কারণে এসব সুবিধাবাদীরা তেমন বেশি সুবিধা করতে পারেনি। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের
ধন্যবাদ জানাই।”

মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ পুরো বিশ্বের কাছে
প্রশংসিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“করোনাকালে পজিটিভ জিডিপি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ২২টি দেশ।
তার মধ্যে আমাদের অবস্থান ওপরের দিকে। আশাহীন জাতি সামনের দিকে এগুতে পারে না।”

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে
ও যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের
সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু
সুফিয়ান ও কলিম সরওয়ার, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক
ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল
ইসলাম, ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক
সম্পাদক রুপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ
মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী,
কার্যকরী সদস্য স ম ইব্রাহীম।

আলোচনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব কর্তৃক ‘মুজিব
জন্মশতবর্ষ’ উপলক্ষে প্রকাশিত বার্ষিকীর বিশেষ সংখ্যা ‘তথ্য সত্য-ভাষ্য’ এর মোড়ক উন্মোচন
করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা।

বিকালে বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক
সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।