বিতাড়িত হওয়ার হুমকিতে পড়েছে সৈকতে সমবেত হওয়া ব্যাকপ্যাকার এবং বিদেশি দর্শণার্থীরা।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, গণস্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে ধরা পড়া ব্যাকপ্যাকার এবং বিদেশি শরণার্থীদেরকে বিতাড়ন করা হতে পারে। বাতিল করা হতে পারে তাদের ভিসা।
মন্ত্রী অ্যালেক্স হওক বলেন, বড়দিনে সিডনির ব্রন্টে বিচের দৃশ্য দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে গেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে তরুণরা দলেবলে সৈকতে নেচে-গেয়ে হৈহুল্লোড় করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ বলেছে, ওই তরুণদের বেশিরভাগই ব্রিটিশ।
সিডনিতে কয়েকমাস ধরে স্থানীয় পর্যায়ে কারও কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা না পড়লেও সম্প্রতি সেখানে ফের নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, বড়দিনের এক সপ্তাহ আগে সিডনিতে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়।
এরপর সংক্রমণ ঠেকাতে তড়িঘড়ি সিডনিতে আবার জারি করা হয় বিধিনিষিধ। এর মধ্যে ছুটির দিনগুলোতে বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ হওয়াসহ, উত্তরাঞ্চলীয় সৈকতগুলোর বেশি সংক্রমণের এলাকাগুলোতে লকডাউনও দেওয়া হয়।
নতুন সংক্রমণের ঢেউয়ে এরই মধ্যে ১২৯ জনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সিডনি বেতারে অভিবাসনমন্ত্রী হওক বলেছেন, “কেউ জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় হুমকি হলে, তাদের ভিসা প্রত্যাহার কিংবা বাতিল করা যায়।”
হওক জানান, নববর্ষের দিন পর্যন্ত কেউ এরকম ভুল কোনও কিছু করে ধরা পড়ে থাকলে ফেডারেল সরকারকে দিয়ে তাদের ভিসা স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রবিভাগকে অনুরোধ করেছেন।
পুলিশ বলেছে, ব্রন্টে সৈকতের পার্টিতে যারা গিয়েছিল তাদের কাউকেই জরিমানা করা হয়নি কিংবা কোনও সাজা দেওয়া হয়নি।
ব্রন্টে সৈকতে কী ঘটেছে?
বড়দিনে মাস্ক না পরেই শত শত তরুণকে ব্রন্টে বিচের পাশের পার্কে মদ্যপান, নাচ, গান করতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসি’কে বলেছে, তাদের ধারণা ওই তরুণদের বেশিরভাগই যুক্তরাজ্যের কিংবা তারা ‘অস্ট্রেলীয় নয়’।
সৈকতের জমায়েতের পাশ দিয়ে সপরিবারে হেঁটে যাওয়া এক স্থানীয় সাংবাদিক পিটার হান্নাম জানান, “লোকজনদের কথাবার্তায় পরিষ্কার ইংরেজি উচ্চারণ শুনতে পাওয়া গেছে এবং বেশ কয়েকজন সাদা ইংলিশ ফুটবল জার্সিও পরেছিলেন।”
তিনি বলেন, পুলিশ স্কোয়াড এবং হেলিকপ্টার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে লোকজনকে সরানোর চেষ্টা করার পরও তারা হৈহুল্লোড় করা থামায়নি।
উপস্থিত লোকজনদের জরিমানা কিংবা শাস্তি দেওয়া হয়নি কেন সে প্রসঙ্গে নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “সেখানে অনেক লোক থাকায় এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। সবসময় সেখানকার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভবও নয়।”
প্রতিক্রিয়া কি?
সৈকতে এই লোক সমাগমের খবরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের অনেকেই অনলাইনে হতাশা প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা এবং বড়দিনের সময় পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগ পোহানো অস্ট্রেলীয়রা সৈকতে এর একেবারে বিপরীত চিত্র দেখে এই আচরণকে ‘স্বার্থপর’ বলে বর্ণনা করেছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্র্যাড হ্যাজার্ড বলেছেন, সৈকতে এই ‘সুপারস্প্রেডার’ ইভেন্ট কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকানোর সামগ্রিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।
‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এ তিনি বলেন, “ব্যাকপ্যাকারদের বেশিরভাগই অস্ট্রেলিয়ায় এসে এখানে তুলনামূলক স্বাধীনতা উপভোগ করেন। কিন্তু এ মুহূর্তে তারা ইউরোপে থাকলে তাদের বেশিরভাগকেই লকডাউনে থাকতে হত, এমনকী তারা দরজার বাইরেও পা রাখতে পারতেন না।”