তার এ সাজা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের বিস্তৃত সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের আওতায় সোমবার হাথলুলকে এ সাজা দেওয়া হয় বলে সৌদি পত্রিকা সাবাক ও আল-শার্ক আল-আওসাতের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৩১ বছর বয়সী এ নারীর বিরুদ্ধে সৌদি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পাল্টাতে চাওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত তাকে মোট ৫ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়।
রায় ঘোষণার সময় কাঁদতে থাকা হাথলুল আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার বোন লিনা।
২০১৮ সালের মে মাসে আরও অনেক নারী অধিকারকর্মীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাথলুল। আদালত সোমবার তার দণ্ড থেকে গ্রেপ্তারের পর আটক থাকা ২ বছর ১০ মাস সময় বাদ দিতে বলেছে।
শর্তসাপেক্ষে আগামী বছরের মার্চেই তার মুক্তি মিলতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি দুই সংবাদমাধ্যম।
হাথলুলকে ৫ বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বোন।
“আমার বোন সন্ত্রাসী নয়, তিনি অধিকার কর্মী। তাকে তার এ কাজের জন্য সাজা দেওয়ার ভেতর দিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি রাজতন্ত্র গর্বের সঙ্গে যেসব সংস্কারের কথা বলছে, সেগুলো যে আসলে ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়, তা-ই প্রমাণ হয়েছে,” এক বিবৃতিতে বলেছেন লিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, হাথলুলের সাজার খবরে তারা ‘উদ্বিগ্ন’।
বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে যাওয়া জেইক সালিভান টুইটারে লিখেছেন, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসন মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে বেশি প্রাধান্য দেবে।
“হাথলুলকে কেবল তার বিশ্বজনীন অধিকার চর্চার কারণে সাজা দেওয়া অন্যায্য ও যন্ত্রণাদায়ক। যেমনটা আমার বলেছি, যেখানে যেখানে মানবাধিকারের লংঘন হবে বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে,” বলেছেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা হাথলুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘জালিয়াতিপূর্ণ’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
সোমবারও জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সৌদি আদালতের রায়কে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ অ্যাখ্যা দিয়ে হাথলুলের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।