স্পিডবোটে করে তাইওয়ানে পালিয়ে যাওয়ার সময় সমুদ্রে ধরা পড়া হংকংয়ের ১২ তরুণের একটি দলের ১০ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হল। বাকি দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদেরকে হংকং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিবিসি জানায়, গত জুনে হংকংয়ে বেইজিংয়ের কঠোর নিরাপত্তা আইন চালু হয়। এরপরই অগাস্টে ওই গণতন্ত্রপন্থি কর্মীরা হংকং ছেড়ে পালিয়ে তাইওয়ানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধরা পড়ে।
হংকংয়ে চীনবিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়তে থাকায় তাইওয়ান সেখানকার গণতন্ত্রপন্থিদের জন্য তাদের দ্বার খুলে দিয়েছে।
গত ২৩ অগাস্ট সকালে ‘হংকং ১২’ দলটি সমুদ্রপথে হংকংয়ের ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থানের সময় চীনের উপকূলরক্ষীরা তাদের পাকড়াও করে।
দলটির প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে চীনের শেনঝেন ইয়ানতিন ডিস্ট্রিক্ট পিপলস কোর্ট। একইসঙ্গে তাদেরকে জরিমানাও করা হয়েছে।
ট্যাং কাই–ইন (৩১) নামের একজনকে তিন বছর এবং কুইন মুন (৩৩) নামের আরেকজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ির ব্যবস্থা করার জন্য তাদেরকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। আর আটজনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য ৭ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চীন এই গণতন্ত্রপন্থিদের আটক করার পর কয়েকমাস ধরে কোনও অভিযোগ দায়ের করা ছাড়াই আটকে রেখেছিল। মাত্র কয়েকসপ্তাহ আগে কর্তৃপক্ষ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
গত সোমবার তাদেরকে শেনঝেন আদালতে বিচার করা হয়। তবে আদালতের শুনানি প্রত্যক্ষ করার অনুমতি বিদেশি সাংবাদিক বা কূটনীতিকদের দেওয়া হয়নি।
বুধবার চীন কর্তৃপক্ষ জানায় ১০ জন দোষ স্বীকার করেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনও ভুল স্বীকার করেছে। গণতন্ত্রপন্থি এই কর্মীদের আইনজীবীরা বলছেন, যে সাজা দেওয়া হয়েছে তা কঠোর। তাছাড়া, অভিযোগও প্রমাণিত নয়।
চীনে ‘হংকং ১২’ দলকে আটকের ঘটনা বিশ্বের মনোযোগ কেড়েছে। তাদের প্রতি চীন কর্তৃপক্ষের আচরণ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছে।