মঙ্গলবার সন্ধ্যায়
জর্ডানের আম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সোনার বাংলার স্বপ্ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে যুক্ত হয়ে তিনি
একথা বলেন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেন, “বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে সব সময়ই বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পাশে
থেকেছে। দখল ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বহু বছরের সংগ্রামের কারণে বঙ্গবন্ধু আমাদের ফিলিস্তিনি
ভাইদের বেদনা দৃঢ়ভাবে অনুধাবন করেছিলেন।
“১৯৭৪ সালে যখন বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যে বক্তব্য রাখেন সেখানেও
তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি তার দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বঙ্গবন্ধুর
সেই সমর্থনের ঘোষণার প্রতি আজও বাংলাদেশ অবিচল রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার প্রশংসা করে রিয়াদ মালিকি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার
বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হওয়া ফিলিস্তিনের জনগণের জন্যও উৎসাহের বিষয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ
হাসিনা ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকারের প্রতি যে ভ্রাতৃত্ব বোধ অব্যাহত রেখেছেন, তা সত্যিই
অতুলনীয়।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের
বাস্তবভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক অনুকরণীয়
দৃষ্টান্ত।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন
সেমিনারের প্রধান অতিথি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ‘সোনার
বাংলা’র স্বপ্ন দেখতেন। তিনি যে সোনার বাংলা স্বপ্ন দেখেছিলেন তা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য,
নিরক্ষরতা ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ।
“প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন
ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের
পোশাক রপ্তানি খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমরা এখন খাদ্য ও মাছ
উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ক্ষুধার কারণে এখানে কেউ মারা যায় না। ২০১০ সাল থেকে ৮ মিলিয়ন
মানুষকে দারিদ্র্যের বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সফলভাবে এমডিজির
লক্ষ্যসমূহ অর্জন করেছে এবং বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“বাংলাদেশ পরবর্তী
শতাব্দীতে নিজেকে সর্বাধিক উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ
করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সফল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
নিরলস চেষ্টা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।”
সেমিনারে ‘ফ্রম ফাদার
টু ডটার: দ্য জার্নি অব সোনার বাংলা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের
উন্নয়নের অবিসংবাদিত নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা
বাস্তবায়নের সফল কারিগর। যে সপ্ন একদিন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন তারই সুযোগ্য কন্যা আজ
তার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
ওয়েবিনারে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ।
শাহ আলী ফরহাদ বঙ্গবন্ধুর
স্বপ্নের সোনার বাংলার মর্মার্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, “ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত
যে অসম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে শেখ
হাসিনাকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে হয়েছে।
“বঙ্গবন্ধুকে হত্যার
মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির পথ চলাকে যারা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে চেয়েছিল তাদের সকল ঘৃণ্য
চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিয়ে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাত ধরে হেঁটে চলেছে উন্নয়নের মহাসড়কে।”
বক্তব্য শেষে বাংলাদেশের
উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ
জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের কথা তুলে
ধরেন।
একইসঙ্গে একটি স্বাধীন
সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য বঙ্গবন্ধুর যে আকাঙ্ক্ষা, যে স্বপ্নের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু
দেখতে চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে একই জাতীয়তা বোধ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ
হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ
বিন মোমেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
নাহিদা সোবহান।