ক্যাটাগরি

‘৩৩ লাখ টাকার বিক্রি ভ্যাট অফিসে দেখিয়েছে ৩৩ হাজার’

প্রতিষ্ঠানটি ৩২ লাখ
৬৭ হাজার টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করে এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে
বলে অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, একজন ক্রেতার
অভিযোগে ভ্যাট গোয়েন্দাদের একটি দল গত ২৮ ডিসেম্বর সোমবার দোকানটিতে অভিযান চালিয়ে
ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পায়। অভিযানকালে ফার্নিচারের দোকান থেকে ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক দলিলাদি
জব্দ করেন গোয়েন্দারা।

এতে দেখা যায়, কেবল
গত মার্চে তাদের প্রকৃত বিক্রয় ছিল ৩৩ লাখ টাকা। কিন্তু তারা মিরপুর সার্কেলে রিটার্নে
দেখিয়েছে মাত্র ১ শতাংশ বা ৩৩ হাজার টাকা। বাকি ৩২ লাখ ৬৭ হাজার টাকাই গোপন করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, এভাবে বিক্রির তথ্য গোপন করে জৈনপুর ফার্নিচার ওই এক মাসের বিক্রিতেই ১৫ শতাংশ
হিসেবে প্রায় ৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

একজন ক্রেতার ওই দোকান
থেকে দেওয়া ভ্যাট চালান ভুয়া মনে হওয়ায় তিনি ভ্যাট গোয়েন্দাদের কাছে এই অভিযোগ করেছিলেন।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের
তথ্য মতে, মিরপুরের রোকেয়া সরণিতে প্রায় এক বিঘা জায়গার উপর গড়ে ওঠা সুদৃশ্য এই ফার্নিচারের
দোকান ‘বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে’। ওই দোকানের ভাড়া ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শোরুমের ফার্নিচার অতি উন্নত মানের ও দামি ব্রান্ডের।

“অনুসন্ধানে দেখা যায়,
প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট নিবন্ধিত হলেও ভুয়া ও ডুপ্লিকেট চালান ব্যবহার করে ফার্নিচার বিক্রয়
করছে। ভ্যাটের জন্য তারা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট সংরক্ষণ করছে। এতে স্থানীয় ভ্যাট সার্কেলে
প্রকৃত বিক্রয় গোপন রেখে নামমাত্র বিক্রির তথ্য ঘোষণা করছে। ফলে কাস্টমার থেকে সংগৃহীত
ভ্যাট সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জৈনপুর ফার্নিচারের
মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা দলটি ওই দিন একই এলাকার হোমউড ফার্নিচার নামের
অপর একটি দোকানেও আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে।

“হোমউড ফার্নিচারের
গত অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের প্রকৃত বিক্রির তথ্য উদ্ধার করে দেখা যায়, ওই দুই মাসে
ভ্যাট অফিসে বিক্রি দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ২৫ ও ৬৪ হাজার টাকা। কিন্তু প্রকৃত বিক্রি
হয়েছে ৪ লাখ ও ১৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা।”

দুই দোকান থেকে জব্দ
করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের ব্যাংক হিসাব
তলব করা হয়েছে। আরও তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।