সোমবার সকালে নকল সরবরাহের ঘটনায় আলোচিত জেএমআইয়ের মাস্ক বাজারজাতকরণ উদ্বোধনীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “কোভিড-১৯ এসেছিল নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে। আমরা হয়ত একটু দেরি করে ফেলেছিলাম, হয়ত আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব ছিল,
জানার অভাব ছিল।
“কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য জাতিকে যথাযথভাবে সংগঠিত করেছেন। কোথায় কি সমস্যা থাকতে পারে সেগুলোকে তিনি তার দূরদৃষ্টিতে পয়েন্ট আউট করেছেন। সেগুলো আমরা করেছি বলে আজকে কোভিড-১৯ সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি।”
করোনাভাইরাস মহামারীতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার কথাও এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
করোনাভাইরাস মহামারীতে সফলতার দাবি করে তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। ইকোনমিকভাবে আমরা পথ হারাইনি, নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা কোনো ভুল কাজ করিনি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমরা উপমহাদেশে প্রথম স্থান দখল করে আছি।”
গত বছর মার্চ মাসে করোনাভাইরাস মহামারীর শুরুতে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করে বিতর্কিত হয় জেএমআই। মাস্ক কাণ্ডে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি।
সে ঘটনায় ওএসডি করা হয় ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শহিদ মো.
সাদিকুল ইসলামকে। সরিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহকে, যিনি পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তার জায়গায় দায়িত্বে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব)
আবু হেনা মোরশেদ জামান।
নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করার পর গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি মো. আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে বেশিদিন কারাগারে থাকতে হয়নি তাকে। ১৫ অক্টোবর জামিনে বের হয়ে আসেন আব্দুর রাজ্জাক।
মাস্ক কাণ্ডে বিতর্কিত এই প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে চলে যান।
এই অনুষ্ঠানে জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, নতুন এন-৯৫ মাস্কটিতে থাকছে পাঁচ স্তরের সুরক্ষা। এর মধ্যে তিন স্তরে থাকছে ফিল্টার পেপার।
“পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে দেশ-বিদেশের পরীক্ষাগারে মাস্কের মান ও যোগ্যতা পরীক্ষা করা হয়েছে। চীন থেকে আমদানি করা এন-৯৫ মাস্ক বাজারে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হলেও আমরা সেই একইমানের মাস্ক ১০০ টাকায় বিক্রি করব।”
আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাংলাদেশে মাস্ক উৎপাদনের কোনো মানদণ্ড না থাকায় চীনের নীতিমালা মেনে দেশে কেএন-৯৫ মানের মাস্ক উৎপাদন করছে জেএমআই।