সোমবার রাতে কাতার-সৌদি আরব স্থল সীমান্ত খোলা দেখা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছিল, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যকার সীমান্ত ও আকাশসীমা ফের খুলবে।
রিয়াদে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর এক বার্ষিক সম্মেলন শুরুর একদিন আগে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাতারের উপর থেকে সৌদি আরবের অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে সৌদি সরকারের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও সোমবার দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘এ অঞ্চলের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পুনরেকত্রীকরণ ও সংহতিই’ এবারের উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য।
কাতার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে, এ অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর দোহার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্নের ঘোষণা দেয়।
কাতার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও অবরোধ তুলে নিতে দেশটিকে তাদের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বন্ধ ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে আনাসহ ১৩ দফা দাবিনামা দেয় ওই চার দেশ।
দুই পক্ষের এই বিরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে এক রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল ঘাঁটি অবস্থিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে কাতারের সঙ্গে চার দেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
এ সম্মেলনে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সোমবার সন্ধ্যা থেকে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জারেড কুশনার, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত আভি বারকোউইৎজ এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রায়ন হুক সৌদি আরব গেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।