একাধিক রাজ্যে কয়েক হাজার হাঁস, মুরগি, কাক ও পরিযায়ী পাখির মৃতদেহ পাওয়ার পর সপ্তাহখানেক আগে কর্মকর্তারা প্রথম এইচ৫এন৮ এর উপস্থিতি শনাক্ত করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এরই মধ্যে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করে বিভিন্ন রাজ্যকে সংক্রমণ মোকাবেলায় ‘জরুরি ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। বার্ড ফ্লুর বেশিরভাগ ‘স্ট্রেইন’ বা ধরন মানুষের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মৃত কিংবা দৃশ্যত অসুস্থ পাখিকে স্পর্শ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর বিপদের মধ্যেই ভারতে এবার এভিয়ান ফ্লু’র এ খাঁড়া নেমে এল।
দেশটিতে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর দৈনিক সংখ্যা একটু একটু করে কমতে দেখা গেলেও কর্মকর্তারা এখন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কয়েক কোটি নাগরিককে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণেই রাজ্যগুলোকে বার্ড ফ্লু নিয়ন্ত্রণে দ্রুত হাঁস-মুরগি নিধনসহ অন্যসব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশে ৩ শতাধিক কাকের মৃত্যু, বার্ড ফ্লুর আশঙ্কা
অনেক রাজ্যে এরই মধ্যে পোলট্রি দোকান ও ডিম বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের মধ্যে কেরালা, হিমাচল, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানেই বার্ড ফ্লু-র প্রকোপ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।
মঙ্গলবার কেবল কেরালাতেই ২৪ হাজারের কাছাকাছি হাঁস ও অন্যান্য পাখির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ রাজ্যের কোট্টায়ামেই প্রথম এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এইচ৫এন৮ ‘স্ট্রেইন’ ধরা পড়ে।
হিমাচলের ক্যাংরা শহরে ২৭ হাজার রাজহাঁসের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পং ডম লেকে প্রায় দুই হাজার ৪০০ পরিযায়ী পাখির মৃতদেহ মিলেছে বলে জানিয়েছেন পশুরোগ বিশেষজ্ঞ ভিক্রম সিং।
মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকশ কাকের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
হরিয়ানার পঞ্চকুলায় ১০ দিনে ৪ লাখ হাঁস-মুরগির মৃত্যুর খবর মিললেও তা যে বার্ড ফ্লু-তেই হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি সেখানকার সরকার। পশ্চিমবঙ্গেও এখন পর্যন্ত বার্ড ফ্লু-র কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।
এ পরিস্থিতিতে কেরালা, হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের আশপাশের রাজ্যগুলোও নানান সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। কেরালা সীমান্তে ২৬টি চেকপোস্ট বসিয়ে হাঁস-মুরগি এবং পোলট্রি পণ্য সরবরাহের উপর নজরদারি চালাচ্ছে তামিল নাড়ু সরকার।
রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়া রুখতে ইতিমধ্যেই সব উদ্যান ও অভয়ারণ্যকে সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের মৎস্য এবং প্রাণী কল্যাণ দপ্তর। দিল্লিতে চালু করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম।