ক্যাটাগরি

ক্যাপিটলে হামলার সঙ্গে হংকংয়ে তাণ্ডবের তুলনা চীনের

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার পর তাদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের যে সংঘর্ষ বাধে তাতে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ক্যাপিটলে এ ভয়াবহ তাণ্ডবলীলার খবর ও ছবি এরই মধ্যে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে স্থান করে নিয়েছে; চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ফুটেজ বারবার দেখানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ২০১৯ সালে হংকংয়ের আইনসভায় বিক্ষোভকারীদের হানা ও তাণ্ডবলীলার মাত্রা বৃধবার ওয়াশিংটনে দেখা হামলার চেয়ে বেশি ছিল।

“কিন্তু একজন বিক্ষোভকারীও মারা যাননি,” বলেছেন এ চীনা মুখপাত্র। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পেছনে যে যে ইস্যু কাজ করছে তার মধ্যে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের উপর বেইজিংয়ের দমনপীড়নের বিষয়ও অন্যতম।

গত বছর চীননিয়ন্ত্রিত শহরটিতে টানা কয়েক মাস সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেলেও পরে ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে আসে। চাপিয়ে দেওয়া নতুন নিরাপত্তা আইনের জোরে বেইজিং এখন শহরটির উপর তার নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।

হংকংয়ে গত বছরের ওই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পার্কিং লট থেকে পড়ে গিয়ে এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছিল। আর ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় অন্তত ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন পুলিশ।

বুধবার ওই হামলার সময় মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলছিল। ভোটের ফল পাল্টে দিতে কংগ্রেস সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই এদিন ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায় বলে মনে করা হচ্ছে।

“আমাদের আশা, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যেন শিগগিরই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উপভোগ করতে পারে,” বলেছেন চুনইং। 

এ চীনা মুখপাত্র হংকংয়ে কয়েকদিন আগে অর্ধশতাধিক গণতন্ত্রপন্থি নেতাকর্মীকে আটকের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তাইওয়ানে পাঠানোর হুমকিরও সমালোচনা করেছেন। 

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবুতে ওয়াশিংটনের ঘটনায় ইউরোপের নেতাদের অবস্থান ও হংকং নিয়ে তাদের উল্টো অবস্থানের ব্যাপক সমালোচনাও চলছে।

“হংকংয়ে ২০১৯ সালের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু লোক যা বলেছিল এবং যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, আজ সেখানে চলমান ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ভিন্ন,” ইউরোপের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েও এমনটাই বলেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুনইং।