পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে হোয়াইট হাউসের সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাট পটিঞ্জার, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দুই শীর্ষ সহযোগী স্টেফানি গ্রিশাম ও রিকি নিসেটাসহ হোয়াইট হাউসের চার শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস পদত্যাগকারী দলের অপর সদস্য বলে জানিয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম।
পটিংঞ্জার ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের চীন নীতির অন্যতম স্তম্ভ। ব্লুমবার্গ নিউজ তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে।
“বিক্ষোভে ট্রাম্পের উসকানি ও ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় পটিংগার হতাশ হয়ে পড়েছিলেন,” বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ক্রিস লিডলের মতো হোয়াইট হাউসের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাম্প সমর্থকরা কংগ্রেস ভবনে হানা দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তাদের সরাতে পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠলে বাধে সংঘর্ষ। এ দাঙ্গা হাঙ্গামায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গ্রিশাম তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে ক্যাপিটল হিলের ঘটনার কথা উল্লেখ না করলেও তার ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনে সহিংসতা ফার্স্ট লেডির চিফ অব স্টাফের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
“হোয়াইট হাউসে থেকে দেশের সেবা করা ছিল সম্মানের। সব জায়গার শিশুদের সহায়তায় মিসেস ট্রাম্পের মিশন এবং এই প্রশাসনের অনেক অর্জনের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত,” পদত্যাগের বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন বছরখানেক হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি থাকার পর মেলানিয়ার চিফ অব স্টাফ হওয়া গ্রিশাম।
এরপর হোয়াইট হাউসের সোশাল সেক্রেটারি রিকি নিসেটা ও ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউসের পদত্যাগের খবর আসে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ব্রায়েনের বুধবারের এক মন্তব্যের পর তার পদত্যাগ নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
“মাত্রই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে কথা হল। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত আমি,” বুধবার এমনটাই বলেছিলেন ও’ব্রায়েন।
হোয়াইট হাউসের ভেতরে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ক্রিস লিডলের পদত্যাগ নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি সূত্র।
কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং আরও অনেকের পদ ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।