ক্যাটাগরি

টিকা কেনার পুরো টাকাই লোপাট হবে: রিজভী

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি
কার্যালয়ের মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সরকার করোনার টিকা নিয়ে
তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব বলছেন, জি-টু-জি চুক্তি হয়েছে ভারতের সাথে, সরকারের
সাথে সরকারের চুক্তি হয়েছে। বেক্সিমকো বলল যে, না এটা একটি বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে।
কোনটা বিশ্বাস করবেন?

“এর মধ্য দিয়েই বোঝা
যাচ্ছে যে, একটা শুভঙ্করের ফাঁকি এবং যেটাকে একেবারে রুঢ়ভাষায় বলা যায়, টাকা কামানোর
জন্য, অর্থ কামানোর জন্য একটা ফাঁক রাখা হয়েছে। এটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।।”

অক্সফোর্ডের টিকা সংগ্রহে
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি
সমালোচনা করে

রিজভী বলেন, “আসলেই
বেক্সিমকো ভ্যাকসিনের এই চুক্তিটা করেছে। এই টাকাটা অনেক জায়গা যাবে, এই টাকাটা কর্তা
ব্যক্তিরাসহ সব জায়গায় যাবে। এই কারণে উপরে একটা প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে স্বাস্থ্য
সচিবকে দিয়ে।

“এখানে জনগণের কোনো
স্বার্থ নেই, এখানে করোনা মোকাবিলার জন্য অথবা করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবা দেওয়ার
জন্য যে টিকা দেওয়া দরকার- এর কোনো কিছুই থাকবে না। এখানে থাকবে উৎকট টাকা চুরির একটা
ভয়ংকর ষড়যন্ত্র।”

তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন
সংগ্রহের জন্য একনেকে ছয় হাজার কোটি টাকা পাস হয়েছে। আমরা বলে দিচ্ছি- এই টাকার পুরোটাই
লোপাট হবে। শেখ হাসিনার উপদেষ্টাদের কাছে মূলত টাকাগুলো ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাবে, এই
টাকার একটা বড় অংক চলে যাবে সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে বেআইনিভাবে।”

সীমান্তে মানুষ হত্যার
ঘটনার জন্য ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে’ দায়ী করেন রিজভী।

“ভোটারবিহীন, জনসমর্থনহীন,
ম্যান্ডেটহীন, নিশিরাতের সরকার তার আত্মা সমর্পণ করে দিয়েছে ভারতের কাছে। দিয়েছে বলেই
যারা তাদেরকে টিকিয়ে রেখেছে তাদেরই মোসায়েবি করছে, তাদের গোলামী করছে।”

দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক
বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “যাদের মেদ বেশি
হয়ে গেছে, তারা মেদ কমানোর জন্য ডায়েটিং করেন। আর আজকে বাংলাদেশের নিম্নআয়ের মানুষ,
স্বল্প আয়ের মানুষ, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ, এমনকি মধ্যবিত্ত মানুষ অটো ডায়েটিং করছে
জিনিসপত্র কিনতে না পেরে, না খেয়ে অটো ডায়েটিং করছে।

বর্তমান অবস্থা থেকে
উত্তরণে জাতীয়তাবাদী শক্তির নতুন প্রজন্মকে আরও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম
স্ট্যাডি- সিএনএসের উদ্যোগে ‘ফেলানী ও সীমান্ত’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন
সংগঠনের ট্রাস্টি মীর হেলাল উদ্দিন।

আলোচনা অংশ নেন বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি
আবদুল হাই শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।