ক্যাটাগরি

নিয়ম নেই, তারপরও সরকারি স্কুলে ‘বিভাগ বাছাই’ পরীক্ষা

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের
সরকারি নাসিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
অধিদপ্তর (মাউশি) বলছে, পরীক্ষা নিয়ে বিভাগ নির্ধারণ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই স্কুল
কর্তৃপক্ষের।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, “ছেলে চায় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার জন্য।
কিন্তু স্কুলের নিয়মে সে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পারছে না। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি
পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেছে, সেজন্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।”

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে,
যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আগ্রহী তাদের সবাইকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারপরও কিছু
শিক্ষার্থী তাদের নির্ধারণ করে দেওয়া যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সেজন্য তাদের একটি
মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

সকালে স্কুলে গিয়ে
দেখা যায়, দুইটি কক্ষে কিছু শিক্ষার্থী বসে পরীক্ষায় দিচ্ছে। অষ্টম শ্রেণির গণিত ও
বিজ্ঞান বিষয়ে তাদের ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

নাসিরাবাদ সরকারি স্কুলের
প্রধান শিক্ষক এম ফরিদুল আলম হোসাইনী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রাতঃ ও
দিবা বিভাগ মিলিয়ে স্কুলের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে উর্ত্তীণ হয়েছে।

তিনি বলছেন, মহামারীর
কারণে গেল বছর অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। যারা ২০১৯ সালে সপ্তম
শ্রেণি থেকে তিন দশমিক ৭০ বা তার ওপরে নম্বর পেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল,
তাদের সবাইকে নবমে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই আবার ব্যবসায় শিক্ষা
বিভাগও নিয়েছে।

ফরিদুল আলম বলেন, “অনেকই
বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে চায়। কিন্তু তারা পড়ার চাপ নিতে না পেরে এসএসসিতে কৃতকার্য
হতে পারে না। বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার পরও কিছু শিক্ষার্থী বিজ্ঞান
বিভাগে ভর্তি হতে চায়। তারা আবেদন করেছে। অবেদনের প্রেক্ষিতে অষ্টম শ্রেণির গণিত ও
বিজ্ঞানের ওপর ২৫ নম্বর করে ৫০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ
করা হলে মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দেবব্রত দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী যে শিক্ষার্থী যে বিভাগে পড়তে চায় তাকে সেই সুযোগ দেওয়া
উচিত। কিন্তু আসন স্বল্পতার কারণে সেটা শহরের স্কুলগুলোতে সুযোগ হয়না। তাই তাদের ফলাফল
মূল্যায়ন করে বিভাগ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আলাদা করে পরীক্ষা নিয়ে বিভাগ বাছাই করার
কোনো সুযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই।”

তিনি বলেন, মহামারীতে
বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। সব শিক্ষার্থী তাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে। সেগুলোর ওপর
ভিত্তি করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উর্ত্তীণ করা হয়েছে।

“যেহেতু অ্যাসাইনমেন্ট
মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়েছে, সেহেতু সেগুলোর ওপর
ভিত্তি করে বিভাগ বাছাইয়ের সুযোগ দিতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনোভাবেই পরীক্ষা
নিয়ে বিভাগ বাছাই করার সুযোগ নেই।”