কসমেটিক সার্জারিতে কোলাজেন ব্যবহার করা
হয়। রূপচর্চায় ব্যবহারে কথা জানা থাকলেও এই প্রোটিন শরীরের জন্য নানানভাবে প্রয়োজন।
এটা হাড়ের সুস্থতা, সংযোগের ব্যথা, হাড়
ক্ষয়, পেশির সুস্থতা ও হৃদপিণ্ড, নখ, চুল, মস্তিষ্ক এমনকি শরীর সুস্থ রাখতেও সহায়তা
করে।
স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত
প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে জানানো হল।
নিয়মিত মালিশ করা: ত্বক মালিশ করা কোলাজেন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ত্বকের তারুণ্যতা ধরে রাখে
ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়াও নিয়মিত মালিশ পেশি সুগঠিত করে। সুগঠিত পেশি, বিশেষত মুখের
ত্বকে তারুণ্য ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং কোষে পুষ্টি সরবারহ করতে ভূমিকা পালন করে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস
প্রাণিজ খাবার কোলাজেন গ্রহণের সবচেয়ে
ভালো পন্থা। বিভিন্ন ধরনের পশুর হাড় অল্প সিদ্ধ করে যে ঝোল তৈরি করা হয় বা যাকে বলে
ব্রোথ তা কোলাজেনের ভালো উৎস। মুরগির গলা ও কার্টিলেজ বা হাড়ের সংযোগস্থলে যে পিচ্ছির
কচকচে অংশ থাকে যাকে বলে তা কোলাজেনের ভালো উৎস এবং এটা আর্থ্রাইটিস রোগের ভালো প্রতিষেধক
হিসেবে কাজ করে। বলা হয়, সামদ্রিক কোলাজেন শরীরে দ্রুত শোষিত হয় তাই খাবারে মাছও যোগ
করুন। মনে রাখবেন, মাছের মাথা ও চোখে বেশি কোলাজেন থাকে।
– ডিমের সাদা অংশ প্রোলিন নামক অ্যামিনো
অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা কোলাজেন তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে কাজ করে।
– প্রোটিন সমৃদ্ধ মটর-ধরনের খাবার অ্যামিনো
অ্যাসিড এবং কপার সমৃদ্ধ যা কোলাজেন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
– প্রাথমিক কোলাজেন হিসেবে ক্লোরোফিল
পরিচিত। তাই খাবারে গাঢ় সবুজ ও শাক-জাতীয় খাবার যোগ করুন।
– ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- টক ফল, বেরি, আনারস, আম, কিউই, পেয়ারা ও মরিচ খাবার
তালিকায় যোগ করুন।
– সালফার সমৃদ্ধ খাবার যেমন- রসুন কোলাজেন
সৃষ্টিকারী খনিজ হিসেবে ও ‘ব্রেকডাউন’ প্রতিরোধক হিসেবে পরিচিত। তাই খাবারে সালফার-জাতীয়
উপাদান যোগ করুন।
জীবন যাত্রায় পরিবর্তন
– অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেইট
প্রদাহ বাড়ায় যা, শরীরের কোলাজেন নষ্ট করে দেয়।
– অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন নষ্ট
করে ও ভেঙে যায়। এতে অস্বাভাবিক ইলাস্টিন গঠন করে বলিরেখার সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন,
বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানব্লক ব্যবহার করতে হবে, এতে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।
– ধূমপান কোলাজেন নষ্ট করে ও নিকোটিন
রক্তের নালীতে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবারহকে ব্যহত করে।
– ত্বক পরিচর্চায় সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার
করা প্রয়োজন।
– নিয়মিত শরীরচর্চা করা বয়সের ছাপ কমায়,
কোলেজেন সুরক্ষিত রাখে। হাড়, হাড়ের সংযোগ স্থল ও পেশি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন