ক্যাটাগরি

লোক সমাগমের কর্মসূচিতে এখনই যাচ্ছে না আ. লীগ

পাশাপাশি জনসমাগম হয়- এমন সাংগঠনিক কার্যক্রমও মাস তিনেক বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে ক্ষমাতসীন দলটির নেতারা জানিয়েছেন।   

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমার পর তারা তৃণমূলের সম্মেলন আয়োজনের কাজ শুরু করেছিলেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলা-উপজেলার সম্মেলন করাও হয়েছে।

“স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা তৃণমূলের সম্মেলন করেছি। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা, সেটা বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লোক জড়ো হয় এমন সভা সমাবেশ ও সম্মেলন বন্ধ রাখার নির্দেশনা আমাদের দিয়েছেন।”

সম্মেলন কতদিনের জন্য পিছিয়ে গেল, সেই প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা বলেননি বাহাউদ্দিন নাছিম।

তিনি বলেন, “মূলত শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা রয়েছে, সেটা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত শীতের সময়টা, বিশেষ করে তিন-চার মাস সম্মেলনের কার্যক্রম না করার কথা নেত্রী আমাদের বলেছেন।”

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নবনির্মিত ১০ তলা ভবনের নামফলক। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নবনির্মিত ১০ তলা ভবনের নামফলক। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

তবে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, মহামারী পরিস্থিতির বিবেচনায় নিয়ে সম্মেলনের পাশাপাশি লোক সমাগম হয় এমন সব কার্যক্রম ‘আগামী মার্চ পর্যন্ত’ স্থগিত রাখতে ‘দলীয় প্রধানের নির্দেশনা আছে’।

গতবছর মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর লকডাউনের বিধিনিষেধ জারি হলে পুরো বিশ্বের মত বাংলাদেশেও জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকটা ঘরবন্দি দশায় পড়ে।

প্রথাগত কর্মসূচি না চললেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের অনেকে সংক্রমিত হয়েছেন, কারও কারও মৃত্যুও হয়েছে। 

ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে এলে আবারও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয় আওয়ামী লীগ। তৃণমূলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন করার প্রস্তুতিও শুরু হয়।

কিন্তু শীতের এই সময়টা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ায় আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন আয়োজনে আবারও ছেদ পড়ল।

আসছে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠান কীভাবে পালন করা হবে জানতে চাইলেবাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “আমরা অনলাইনেই জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করব। তবে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রতীকী একটি সভা করা হবে, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকতে পারেন।”

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সম্মেলন কিছু দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আবার আমরা সম্মেলনসহ লোকসমাগম হয় এমন কার্যক্রম শুরু করব।”

আর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সম্মেলনগুলো এখন হচ্ছে না, তবে সাংগঠনিক অন্যান্য কাজ আমাদের চলছে।”