রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার রায়ের এ অংশটি ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।
ফলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরমান আপাতত ২০ লাখ টাকা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অমিত দাশ গুপ্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাই কোর্ট রায়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিল, সে অংশটি আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ-টু আপিল করতে বলা হয়েছে।”
ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিতের পেছনে যুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রিট এখতিয়ারে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এভাবে নির্ধারণ হতে পারে না। তাছাড়া দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পুলিশ সদস্যের কৃতকর্মের দায় তো গোটা বাহিনী নিতে পারে না।”
আরমানের আটকাদেশ অবৈধ এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ ডিসেম্বর এ রায় দেয়।
আরমানকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি এবং ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্দেশ প্রতিপালনের হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়।
আরমানের গ্রেপ্তার ও কারাভোগের ঘটনায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার দায় নিরূপন করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজিকে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
ওই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- পল্লবী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির, একই থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম খান, উপ-পরিদর্শক রউফ ও পল্লবী থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক রাসেল।
তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে।
সেই সাথে বলে দেওয়া হয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে।
রায়ের ক্ষতিপূরণের অংশটি স্থগিত চেয়ে ১০ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই সাথে অভিযোগ ওঠা পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যও রায়ে তাদের অংশটি স্থগিত চায়।
কিন্তু পুলিশের আবেদনটি সেদিনই কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয় চেম্বার বিচারপতি।
‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে গত বছর ১৮ এপ্রিল দৈনিক ‘আমাদের সময়’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সেখানে বলা হয়, পল্লবীর বেনারসী কারিগর মো. আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ৩ বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিচয়ে, তার পরিবর্তে সাজা ভোগ করছেন আরমান।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু বাবার নামে মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জোর অভিযোগ করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন কারাগারের বাইরে দিব্যি মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই প্রতিবেদন যুক্ত করে আরমানের মা গত বছর জুলাইয়ে আদালতে রিট আবেদন করেন। সেখানে আরমানের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তার জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট রুল জারি করে।
পল্লবীর বেনারসীর কারিগর মো. আরমানকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত করতে কেন তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সঙ্গে আরমানের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তাকে মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।
জারি করা এ রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রায় দেয় উচ্চ আদালত।