বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ জন রিপাবলিকান সদস্য অভিশংসন উদ্যোগের পক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের মেয়াদের সাত দিন বাকি থাকার মধ্যেই এই রিপাবলিকানের বিরুদ্ধে তার অনুসারিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিদ্রোহ প্ররোচিত করার অভিযোগ এনে বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের একটি অনুচ্ছেদের ওপর ভোটাভুটি হবে।
ভোটে তা পাস হলে ট্রাম্পই হবেন যুক্তরাষ্ট্রে দুইবার অভিশংসিত হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট। কিন্তু অভিশংসিত হলেই ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভবে ক্ষমতাচ্যুত হবেন না। এখনও রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচ্চকক্ষ সেনেটে তার বিচারের পট প্রস্তুত হবে।
তবে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সেই বিচার সময়মত শুরু হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে আইনপ্রণেতাদের বিতর্ক চলার এই সময়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ক্যাপিটল ভবনের চারপাশে মোতায়েন করা আছে ন্যাশনাল গার্ড সেনা।
হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টেনি হোয়ার বলেছেন, অভিশংসন প্রস্তাব অনুমোদন পেয়ে গেলেই ডেমোক্র্যাটরা তা অবিলম্বে সিনেটে পাঠাতে চায়। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এরপর সেনেটে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য ৯ জন অভিশংসন ম্যানেজারের নামও জানিয়ে রেখেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা যে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে অভিশংসনের পথে আগাচ্ছেন তাতে জাতীয় নিরাপত্তায় ট্রাম্পের হুমকি হয়ে থাকার বিপদটাই সামনে চলে এসেছে। তাছাড়া, ডেমোক্র্যাটদের ত্বরিৎ পদক্ষেপ সেনেটে অবিলম্বে ট্রাম্পের বিচার করার জন্য রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।
তবে ম্যাককনেল বলেছেন, সেনেট অধিবেশন শুরু হবে ১৯ জানুয়ারিতে। তার আগ পর্র্যন্ত কোনও বিচারকাজ শুরু করা হবে না। যদিও ডেমোক্র্যাট সেনেটর চাক শুমার এবং নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সাংবাদিকদের বলেছেন, ম্যাককনেল রাজি থাকলে বিচারের জন্য সেনেটের অধিবেশন ডাকা যেতে পারে।
গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে হামলার পর থেকে ওয়াশিংটনে উচ্চ সতর্কতা জারি আছে। ওইদিন ট্রাম্পের ভাষণের পর তার কট্টর সমর্থকরা ভবনটিতে হামলে পড়লে সংঘর্ষে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।
তাই বুধবার কংগ্রেসে অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই ভবনটিতে সশস্ত্র হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
এদিন সকাল ৯ টার পরই প্রতিনিধি পরিষদে অধিবেশন শুরু হয়। এই জায়গাই ৬ জানুয়ারিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। অপরাধের সেই ঘটনাস্থলেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে অভিশংসনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাট জিম ম্যাকগভেন।
অভিশংসন ভোটের দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে সোমবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রস্তাব তুলেছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পেন্স তা প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডেমোক্র্যাট ন্যান্সি পেলোসিকে পাঠানো এক চিঠিতে পেন্স বলেছিলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ আমাদের জাতির স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করবে বা এটি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি না।”
এই চিঠি সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদে তোলা ওই প্রস্তাব পাস হয় আর পেন্সকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ২২৩ ও বিপক্ষে ২০৫ ভোট পড়ে।
এসব ঘটার সময়েই নিজ দলের ওপর ট্রাম্পের বজ্রমুষ্ঠি আলগা হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃস্থানীয় একজন সদস্যসহ অন্তত পাঁচ জন রিপাবলিকান জানান, তারা ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য ভোট দেবেন।
এই সদস্যদের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের তিন নম্বর রিপাবলিকান লিজ চেনিও আছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান ডিক চেনির মেয়ে।