এক বিবৃতি দিয়ে ওয়ার্ডের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট।
দারুণ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও চোটজর্জর ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি খেলতে পারেননি ওয়ার্ড। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলেন মাত্র আটটি টেস্ট। ক্যান্টারবুরির হয়ে নিয়মিত কিপারের দায়িত্ব পালন করা ওয়ার্ড ৯৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন।
দুর্দান্ত এক উইকেটকিপার হিসেবে তাকে মনে রাখবে ক্রিকেট দুনিয়া। কেবল বিশেষজ্ঞ কিপার হিসেবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন এমন একটি প্রজন্মের শেষ কজনের একজন ছিলেন তিনি। মূলত ব্যাটিং করতেন ৯ থেকে ১১ নম্বরে, শুধু এক ইনিংসে করেছেন সাতে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৭টি ডিসমিসাল করেন ওয়ার্ড। এর একটি স্টাম্পিং, ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইলিয়াসকে করেছিলেন।
আঙুলের চোট বারবার বাধা না দিলে টেস্ট ক্যারিয়ার আরও লম্বা ও সমৃদ্ধ হতে পারত ওয়ার্ডের। তার টেস্ট অধিনায়ক জন রিড একবার বলেছিলেন, ওই সময়ের সেরা উইকেটকিপার ছিলেন ওয়ার্ড, কিন্তু চোট জর্জরিত ছিল তার ক্যারিয়ার।
বৃদ্ধাঙ্গুলসহ হাতের তিন আঙুলে তিনবার চোট পেয়েছিলেন তিনি। একবার বৃদ্ধাঙ্গুলের চোট নিয়ে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করতে গ্লাভসের মধ্যে তামার পাইপ লাগিয়ে খেলেছিলেন ওয়ার্ড।
১৯৬৪ সালে ওয়েলিংটনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের ৯৯তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয় ওয়ার্ডের। ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়ার্ডের টেস্টের সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৩৫, চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন তিনি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতে কার্যকর লেগ স্পিনার ছিলেন ওয়ার্ড। কিন্তু ক্লাবের প্রয়োজনে গ্লাভস হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে ২০১৬ সালে তিনি বলেছিলেন, “কেউ উইকেটকিপার হতে চাইতো না। তাই ভাবলাম, দেখি একবার গ্লাভস হাতে নিয়ে।”
এরপর থেকে নিজেকে গড়ে তোলেন দক্ষ কিপার হিসেবে। ক্যান্টারবুরির হয়ে ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ওয়ার্ড। যেখানে তার ডিসমিসাল ১৫৩টি।
১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ডে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ছয় মাসের লম্বা সফরে গিয়েছিলেন ওয়ার্ড। সেবার অবশ্য কোনো টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তার। পরে ছয় মাসের আরও দুটি সফর করেন তিনি। একটি ১৯৬১-৬২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্যটি ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডে।
“সে ছিল এক অসাধারণ সময়। আমরা পৃথিবীর অনেকটাই দেখেছিলাম। সেখানে কোনো অর্থ ছিল না, আবার নিজেরও কিছু খরচ হতো না। সিগারেট থেকে শুরু করে সবই দেওয়া হতো।”