ক্যাটাগরি

এমপোরি সেন্টার: ‘এসি মেরামতের সময়’ ছাদে ও ভিসা সেন্টারে একসঙ্গে বিস্ফোরণ

বুধবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটের পর গুলশান-২ সেকশনের ৯৩ নম্বর রোডের ওই ভবনে বিকট বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

১৪ তলা এমপোরি ফাইনানশিয়াল সেন্টারের নিচতলাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা প্রসেসিং সেন্টার। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের বারিধারা শাখাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে সেখানে। 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কম্প্রেসর বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত গুলশানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যালয়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে হঠাৎ ওই ভবনে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়। পুলিশ সাময়িকভাবে সেখান দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তখন ওই ভবনের সামনে কৌতুহলী জনতার ভিড় জমে যায়। বাইরে থেকে দেখা যায় বিস্ফোরণে ভবনের নিচতলার সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাচ ভেঙে গেছে এবং অ্যালুমিনিয়ামের প্যানেল, ফলস রুফ, প্লাইউডের কাঠামো ভেঙে পড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা প্রসেসিং সেন্টারের ক্ষতিগ্রস্ত একটি কক্ষ; বুধবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কম্প্রেসর বিস্ফোরণ হয় সেখানে। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

নিহত আজিজুল হক ছিলেন আজিজ ট্রেড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান। এসি মেরামতের কাজ করতেই তিনি ওই ভবনে এসেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১৪ তলার ছাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান জানান, আহত ছয়জন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।

এরা হলেন- নাজমুল হাসান (৩১), মাসুদ পারভেজ (৩১), কায়নাত (২১), উম্মে সালমা (৩৫), ফেরদৌস (২১) এবং সজল (২২)। তারা সবাই আমিরাতের ভিসা সেন্টারের কর্মী।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত নিচতলায় ভিসা সেন্টারে এবং ছাদে বিস্ফোরণগুলো হয়। টেকনিশিয়ান যখন ছাদে এসির বাইরের ইউনিটে মেরামতের কাজ করছিলেন, তখনই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। বিস্ফোরণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

গুলশানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা প্রসেসিং কার্যালয়ে বুধবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কম্প্রেসর বিস্ফোরণে নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ১৪ তলার ছাদে এসির বাইরের যে অংশগুলো রয়েছে, তার পাঁচটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর নিচতলায় আমিরাতের ভিসা সেন্টারের আটটি এসিতে বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা গেছে।

“প্রাথমিকভাবে যেটা বোঝা যাচ্ছে, এসি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ভিসা সেন্টার কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ছাদে এবং নিচে বিস্ফোরণগুলো প্রায় একই সময়ে হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে পরিদর্শক আমিনুল বলেন, নিচতলায় যে এসিগুলো ছিল, সেগুলো ইয়র্ক (YORK) কোম্পানির। তবে কেন তাতে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাদে এসির আউটডোর ইউনিটে বিস্ফোরণের কারণে নিচের ভিসা সেন্টারে এসির ভেতরের অংশের ইউনিটগুলোতে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। এখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে।”

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কম্প্রেসর বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত গুলশানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যালয়। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনার ওপর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকেও খবর দেওয়া হয়েছিল।

তারা কী পেয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বম ডিসপোজাল ইউনিট) রহমত উল্লাহ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, “এসি থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে, অন্য কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। এরপরেও আমরা অনুসন্ধান করছি।”