রাসায়নিক বহনকারী কার্গো জাহাজ ‘এমভি রোসুস’ এর মালিক ছিলেন একজন রুশ ব্যবসায়ী এবং ক্যাপ্টেনও ছিলেন একজন রুশ নাগরিক। এ দুইজনকেই গ্রেপ্তারের জন্য গতবছর অক্টোবরে ইন্টারপোলের কাছে আর্জি জানিয়েছিল লেবানন সরকার।
তবে বুধবার ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে রেড নোটিশের তালিকায় তাদের নাম দেখা যায়নি।
বৈরুতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইন্টারপোল পর্তুগালের আরেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও নোটিশ জারি করেছে। যিনি ২০১৪ সালে বৈরুত বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বোঝাই ওই কার্গোটি পরীক্ষা করেছিলেন। এ বিষয়ে আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
গত বছর অগাস্টে বৈরুতের বন্দর এলাকায় ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে প্রায় দুইশ মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন কয়েক হাজার মানুষ।
বন্দরের একটি গুদামে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা মারাত্মক দাহ্য পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কারণে ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণ হয়েছিল। যার ধাক্কায় বৈরুত নগরীর প্রায় অর্ধেকটা ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়।
তখনই প্রশ্ন উঠে, কেন বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ ওই রাসায়নিক গুদামে পড়ে ছিল। কেন সেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা হয়নি। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন ছিল, ওই রাসায়নিকের মালিক কে?
ওই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মাঠে নেমেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন-ইন্টারপোল।
তবে ইন্টারপোলের এই রেড নোটিশ আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। বরং আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে আটকে রাখতে বলা হয়। ইন্টারপোল তাদের কোনও সদস্য রাষ্ট্রের অনুরোধে সাধারণত এ ধরনের ‘রেড নেটিশ’ জারি করে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যমে ‘রেড নোটিশের’ কথা বলা হলেও ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে কিছু উল্লেখ না থাকার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইন্টারপোল গ্লোবাল পুলিশ কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি বিষয়টি অস্বীকার বা নিশ্চিত কোনওটিই করেনি।
ইন্টারপোলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যদি এ ধরনের কোনও নোটিশ জারি করে তা অনলাইনে প্রকাশ করা না হয় করা হয়, তার মানে সেটি শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর জন্য করা হয়েছে।
বৈরুতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় লেবাননের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজন বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাকে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকও করা হয়েছে।
লেবাননের নিরাপত্তা এবং বিচারবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাবলিক প্রসিকিউটর থেকে গত বছর ইন্টারপোলকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ভর্তি কার্গো জাহাজ এমভি রোসুস এর রুশ ক্যাপ্টেন এবং মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করা হয়।
২০১৩ সালে বৈরুত বন্দরে পৌঁছেছিল এমভি রোসুস। তারপর থেকে সেটি সেখানেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল।
এমভি রোসুস যখন বৈরুতে পৌছায় তখন সেটির ক্যাপ্টেন ছিলেন বরিস প্রোকোশেভ। তিনি বলেন, জাহাজ নিয়ে বৈরুত বন্দরে পৌঁছানোর পর সেটির মালিক তাকে জাহাজে বাড়তি কার্গো তুলতে বলেন।
এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হলে তিনি জাহাজটি সেখানে রেখে চলে যান। লেবানন কর্তৃপক্ষ জাহাজে থাকা অ্যামেনিয়াম নাইট্রেট কতটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাননি বলেও দাবি ওই ক্যাপ্টেনের।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমি হতবাক হয়েছি। কিসের ভিত্তিতে আমাকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হচ্ছে আমি তা একদমই বুঝতে পারছি না।”