ক্যাটাগরি

ভারতে বার্ড ফ্লু: মুরগির বাচ্চা আমদানি বন্ধ

ভারতের অন্তত আটটি
রাজ্যে বার্ড ফ্লু দেখা দেওয়ায় দেশে এ রোগের সংক্রমণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগাম প্রস্তুতি নিতে মঙ্গলবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে
চিঠি দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভারতে বার্ড ফ্লু
দেখা দেওয়ার কারণে যাতে আমাদের দেশে এই রোগ ছড়িয়ে না পড়ে তাই আমরা সতর্ক থাকছি। আমরা
ভারত থেকে কোনো প্রাণি, মুরগি বা হাঁস বা ডিম আমদানি করছি না, মুরগির বাচ্চাও না।”

দেশে কোথাও এখনও বার্ড
ফ্লু সংক্রমণের খবর নেই বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীরাও নিজ উদ্যোগেই
মুরগির বাচ্চা আমদানি বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পোলট্রি খাতের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি
ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ নাগ।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, “বার্ড ফ্লুর কারণে আমরা সাময়িকভাবে দেশের বাইরে থেকে মুরগির বাচ্চা আমদানি
করা বন্ধ ঘোষণা করেছি, যদিও আমরা ইউরোপের দেশগুলো থেকেই মুরগির বাচ্চা আমদানি করি।
যত দিন অবধি বার্ড ফ্লুর আতঙ্ক না কাটবে, আমরা মুরগির বাচ্চা আমদানি করছি না।”

এর আগে বাংলাদেশে বার্ড
ফ্লুর সাব টাইপ এইচ ফাইভ এন ওয়ান (হাই-প্যাথোজেনিক) ও এইচ নাইন এন টু (লো-প্যাথোজেনিক)-
এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভারতের অন্তত আটটি রাজ্যে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভারতের অন্তত আটটি রাজ্যে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এইচ ফাইভ এন ওয়ান
(হাই-প্যাথোজেনিক)-এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০০৭ সালের মার্চে। ওই সময় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান
হাই-প্যাথোজেনিক ভ্যাকসিন আমদানি শুরু করে।

কিন্তু এর কিছু দিন
পরই এইচ নাইন এন টু (লো-প্যাথোজেনিক)-এর নীরব প্রাদুর্ভাব দেখা গেলে সঙ্কট দেখা দেয়
ভ্যাকসিনের। হাই-প্যাথোজেনিকের ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও লো-প্যাথোজেনিকের
বিষয়ে অনুমোদন ছিল না।

তবে সম্প্রতি সেই গেরো
কেটেছে বলে জানালেন এসিআই অ্যানিমেলের বিজনেস হেড ডা. মঈনুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত বছরের
জুনে তারা লো-প্যাথোজেনিক ভাইরাস আমদানির অনুমোদন পেয়েছিলেন। তখন ৫ কোটি ডোজ আমদানি
করেছিলেন। এখন ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা আবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আমদানির জন্য
অনুমতির আবেদন করেছেন।

মঈনুল ইসলাম বলেন,
“এইচ নাইন এন টু (লো-প্যাথোজেনিক) খুবই মারাত্মক রোগ। দেখা গেল হাই-প্যাথোজেনিক আক্রান্ত
হাঁস-মুরগির মধ্যে ৯৬ ভাগ ক্ষেত্রে এইচ নাইন এন টু পাওয়া গেল। এটা গত কয়েক বছরে বেশ
প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের পোলট্রি খাতে।

“আমরা এর ভ্যাকসিন
নিউফ্লো এইচ নাইন টু আমদানি করতে চাই হাঙ্গেরির সিভা কোম্পানি থেকে। এর অনুমোদন চেয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফরহাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে
বলেন, লো-প্যাথোজেনিকের টিকা আমদানির জন্য ইতোমধ্যেই এসিআই অ্যানিমেল ও বেঙ্গল ওভারসিজকে
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের
দেশে এখনও বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ সেভাবে শুরু হয়নি। কিন্তু এখনই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের অনেক জায়গা থেকে খবর আসছে যে মুরগির দাম মারাত্মকভাবে পড়তে শুরু করেছে। অনেক
খামারি আতঙ্কে থাকবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি, ভ্যাকসিনের যেন কোনো ঘাটতি না থাকে।”

বার্ড ফ্লুর ভ্যাকসিন
কতটা মজুদ আছে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে জানতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
আবদুল জব্বার শিকদারের দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
মন্ত্রী রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে। বার্ড
ফ্লু মোকাবেলাসহ অন্যান্য প্রাণির জন্য যে ভ্যাকসিনের দরকার তার মজুদ সন্তোষজনক। কোনো
সঙ্কট নেই। ”

সর্বোচ্চ সতর্কতমূলক
ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কোথাও হাঁস-মুরগি ন্যূনতম
অসুস্থতা বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নলেজে নিয়ে
আসার জন্য বলা হয়েছে। ভাইরাসের কোনো লক্ষ্মণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা ল্যাবে
নিয়ে আসব। যারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে তাদের পিপিই ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

“বার্ড ফ্লু নিয়ে এটা
আমাদের প্রাক প্রস্তুতি বলতে পারেন। বার্ড ফ্লু নিয়ে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত, ভুল বোঝাবুঝি
বা প্রচারণা না ছড়ায় সেদিকে যেন আমরা সতর্ক থাকি।”

মন্ত্রী জানান, বার্ড
ফ্লু রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে হাঁস-মুরগি ও পাখিজাতীয়
প্রাণি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে সীমান্তবর্তী
এলাকার কথা বলা হলেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মঙ্গলবার প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তরকে পাঠানো চিঠিতে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় প্রতিদিন বার্ড
ফ্লু রোগের অনুসন্ধান এবং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি
খামারে নিবিড় তত্ত্বাবধানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে কোনো মৃত
বা সন্দেহজনক হাঁস-মুরগি বা পাখি পাওয়া গেলে নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত নিকটবর্তী ল্যাব
থেকে পরীক্ষা করে ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
চিঠিতে।

জেলা ও উপজেলা ভেটেরিনারি
হাসপাতাল ও গবেষণাগারে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষার কিট ও পিপিই জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ,
খামারে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষক ও খামারিদের সতর্ক করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো,
বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে এর টিকার বর্তমান মজুত যাচাই করে দ্রুততার সঙ্গে টিকা সংগ্রহের
ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা এবং এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সারা দেশ
থেকে সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও তা মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে
বলা হয়েছে।