ক্যাটাগরি

বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি শুরু ক্যারিবিয়ানদের

তিন দিন কোয়ারেন্টিনে
থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রথম অনুশীলনে ফিটনেস পেল বাড়তি গুরুত্ব। একই সঙ্গে
কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিকে দেখা গেল মনোযোগ।

মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট
অ্যাকাডেমি মাঠে বৃহস্পতিবার দুটি ভিন্ন সময়ে অনুশীলন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ও ওয়ানডে
দল। দুই দলের অনুশীলনে ছিল দুই মেজাজ। ট্স্টে দল স্কিল অনুশীলন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকল,
ওয়ানডে দলের কাছে গুরুত্ব পেল ফিটনেস।    

সকাল সাড়ে দশটার
দিকে অনুশীলনে আসে টেস্ট দল। ওয়ার্মআপ দিয়ে শুরুর পর ফুটবল খেলে গা গরম করে নেন ক্রিকেটাররা।
একটা নেটে টানা বল করে যান ফাস্ট বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। শুরু থেকে তার সঙ্গে ছিলেন
রেমন রেইফার। পরে যোগ দেন কেমার রোচ ও আলজারি জোসেফ।

আরেক নেটে ছিলেন
কেবল স্পিনাররা। রাকিম কর্নওয়াল, কাভেম হজ শুরুতে ঘণ্টা খানেক বোলিং করেন। পরে হাত
ঘোরান দুই বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ও ভিরাসামি পেরমল।

অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট,
সহ-অধিনায়ক জার্মেইন ব্ল্যাকউড, ওপেনার জন ক্যাম্পবেল, কিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া দা
সিলভা দুই নেটে অদল বদল করে লম্বা সময় ধরে ব্যাট করেন।

টেস্ট সিরিজ আসতে
এখনও বেশ দেরি। আপাতত কন্ডিশন বুঝে নেওয়ার দিকে মনোযোগী সফরকারীরা। উইকেটের টার্ন,
বাউন্স, গতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই শুরু করলেন ব্যাটসম্যানরা।

নিজের শতভাগ দিয়েই
বল করতে দেখা যায় পেসার গ্যাব্রিয়েলকে। রোচ-জোসেফ যেন ঠিক করে নিচ্ছিলেন নিজেদের লাইন-লেংথ।

বাংলাদেশ সফরে কী
অপেক্ষা করছে ভালো করেই জানে সফরকারীরা। দল ঠাসা স্পিনারে। এক ঘণ্টার টানা বোলিংয়ে
কর্নওয়াল বুঝে নিলেন কোথায় বল ফেলতে হবে, কোনটা হবে তার লেংথ।

প্রচুর ফ্লাইট দিলেন
বাঁহাতি হজ। পেরমল ও ওয়ারিক্যান বল করলেন জোরের উপর। ফ্লাইট কম দিয়ে অনেকটা ওয়ানডে
ঘরানার লাইন-লেংথে বোলিং করলেন এই দুই বাঁহাতি স্পিনার।

অনুশীলনের পর মাঠে
গোল হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বললেন টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা। অনেক সময় ধরে বলে যেতে
দেখা যায় অভিজ্ঞ গ্যাব্রিয়েলকে। তারা যখন প্রথম দিনের প্রাপ্তির হিসাব মেলাতে ব্যস্ত,
ততক্ষণে মাঠে চলে এসেছেন ওয়ানডে দলের খেলোয়াড়রা।

প্রধান কোচ ফিল সিমন্স
ছিলেন এই দলটির সঙ্গে। মাঠে যাওয়ার পর লম্বা সময় ধরে একের পর এক ড্রিল করান ট্রেনার।
ওয়ার্ম আপ ও ফিল্ডিং অনুশীলন যতটা সম্ভব আনন্দময় করার চেষ্টা ছিল তার। টেস্ট দলের চেয়ে
ওয়ানডে দলের এই পর্বের ব্যাপ্তি ছিল বেশি। 
 

দমবন্ধ পরিবেশে থাকার
পর মুক্ত বাতাসে স্বাভাবিকভাবে ক্রিকেটাররা ছিলেন উজ্জ্বীবিত। ফিল্ডিংয়ে নিজেদের মধ্যে
একরকম প্রতিযোগিতায় মেতে ছিলেন তারা। এরপর শুরু হয় সাদা বলের অনুশীলন।

কাইরন পোলার্ডের
অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া জেসন মোহাম্মেদ
জানান, হোটেলবন্দি সময় কাটিয়ে এখন নজর যতটা সম্ভব ভালোভাবে নিজেদের তৈরি করার দিকে।

“তিন দিনের কোয়ারেন্টিন ছিল কঠিন।
সেখান থেকে বের হয়ে মুক্ত বাতাসে আসতে পেরে ভালো লাগছে। শেষ পর্যন্ত অনুশীলন শুরু করতে
পারলাম।”

“লক্ষ্য অবশ্যই সিরিজ জেতা। ধারাবাহিকভাবে
ভালো খেলা এবং স্কোর বোর্ডে জেতার মতো রান তোলা।”

এই কাজ কতটা কঠিন
হবে ভালো করেই জানেন মোহাম্মেদ। দুই দলের সবশেষ চার ওয়ানডে সিরিজের তিনটিতেই হেরেছে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১১-১২ মৌসুমের পর বাংলাদেশে এই সংস্করণে কোনো সিরিজ জেতেনি ক্যারিবিয়ানরা।
দেশে ও প্রতিপক্ষের মাঠ মিলিয়ে টানা তৃতীয় সিরিজে হার এড়ানোর চ্যালেঞ্জ দলটির সামনে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের
বিপক্ষে শেষ আট ওয়ানডের সাতটিতে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে তিন বিভাগেই
ধারাবাহিকতা চাইলেন অধিনায়ক।

“বাংলাদেশ ভালো একটি দল। সাদা বলে
এবং দেশের মাটিতে ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলে। আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে সামনের দিকে তাকিয়ে
আছি।”   

“তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে। ব্যাটিং,
বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ভালো করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত যতটা সম্ভব ধারাবাহিক হতে হবে,
এরপর তিন বিভাগেই নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে হবে।”

ওয়ানডে সিরিজের আগে আগামী
সোমবার নিজেদের মধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম ওয়ানডে বুধবার।