চিকিৎবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে সব প্রদাহ
দেখা বা অনুভব করা না গেলেও তা হয়ত আপনার শরীরের ভেতর ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে, সমস্যা আকারে
দেখা দেওয়াটা শুধুই সময়ের ব্যাপার।
পেট ফুলে থাকা, পেটে ব্যথা, হাড়ের জোড়ে
ব্যথা, পেশি ব্যথা ইত্যাদি সবই হতে পারে প্রদাহ। এদের সংখ্যা যত বেশি ততই বিভিন্ন রোগে
আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আর ক্রমাগত মানসিক চাপ প্রদাহ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত প্রধান
কারণ।
সব প্রদাহই যে খারাপ এমন নয়, অনেক সময়
শরীরের কোনো ক্ষতি পূরণের জন্যও প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ক্ষয়পূরণ হয়ে গেলে প্রদাহও সেরে
যায়।
সুস্থ সুন্দর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যকর
জীবনযাত্রার বিকল্প নেই। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও আবার প্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়াতে
পারে।
এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক
একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছুটির দিনে ঘুম পূরন করা: ছুটির দিন কাছাকাছি এলেই কর্মজীবী মানুষগুলো ভাবেন বেশি করে ঘুমিয়ে
নেব। তবে সমস্যা হল বেশি ঘুমাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ঘুমের রুটিনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
আবার সঠিক সময়ে ঘুমানো হয়নি বলেই ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যে কারণেই আপনি ভাবছেন বেশি
করে ঘুমিয়ে নিতে হবে। ঘুমের নিয়মের এই বিশৃঙ্খলাই ডেকে আনতে পারে বিভিন্ন ধরনের মৃদুমাত্রার
প্রদাহ। ঘুমের সময় শরীরের প্রতিটি অংশের ক্ষয়পূরণ হয়। তাই এর একটি নির্দিষ্ট সময় থাকতেই
হবে।
পুষ্টিকর খাবার ছেড়ে সাপ্লিমেন্ট: ভিটামিন ট্যাবলেট থেকে শরীরের সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া
সম্ভব নয়। শরীরের পুষ্টির চাহিদার মেটানোর জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প
নেই। সেখানে পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে বিভিন্ন ধরনের ‘সাপ্লিমেন্ট’ তবে তা খাবারের
বিকল্প হতে পারে না।
অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ: শরীরচর্চার অভ্যাস হওয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তবে না খেয়ে
থেকে শরীরচর্চা করে গেলে হিতে বিপরীত হবে। শরীরের ওপর যেমন ধকল দেবেন তেমনি তাকে পর্যাপ্ত
জ্বালানিও দিতে হবে। শরীরচর্চাও করতে হবে শরীরের ক্ষমতা বুঝে। এক ঘণ্টার জায়গার দুই
ঘণ্টা ব্যায়াম করে ফেললেই জাদুবলে আপনার স্বাস্থ্য উন্নত হয়ে যাবে না।
মিষ্টি একবারে বাদ: কার্বোহাইড্রেইট’য়ের পর ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া পেছনে দ্বিতীয় বড় কারণ হলো
চিনি। তাই সকল মিষ্টি খাবার বাদ দেওয়াও ঠিক না। ৭০ শতাংশ কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট মানসিক
চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি এতে আছে প্রদাহনাশক উপাদান।
শরীরচর্চার জন্য খুব ভোরে ওঠা: ভোরে ঘুম থেকে ওঠা হল এক আদর্শ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে পর্যাপ্ত
ঘুম পূরণ না করলে আবার বিপদ। ভোরে উঠে শরীরচর্চার চাইতে পর্যাপ্ত ঘুম পূরণ করা বেশি
জরুরি। তাই বলে আবার অলস হয়ে গেলেও হবে না। ভারসাম্য থাকতে হবে সবকিছুতেই।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ: মন শান্ত করার জন্য ধ্যান, যোগ ব্যায়াম উপকারী। তবে সেগুলোতে
যদি আপনি আগ্রহ না পান, অনুশীলন করতে যদি ইচ্ছাই না হয় তাহলে জোর করে করলে কোনো লাভ
হবে না। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই অনুসরণ করুন না কেনো তা থেকে
কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
আরও পড়ুন