ক্যাটাগরি

ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিলেন সাকিব-হাসান

ক্যারিবিয়ানদের বাজে ব্যাটিংয়ে অবশ্য বাংলাদেশের আপত্তির কারণ নেই। সোয়া ১০ মাস পর দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশ জয়ের পথ তৈরি ফেলেছে প্রথম ভাগেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩২.২ ওভারেই অলআউট ১২২ রানে।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে সাকিবের শিকার ৪ উইকেট। ৭.২ ওভারে রান দিয়েছেন তিনি মাত্র ৮। অভিষেক রাঙিয়ে তরুণ পেসার হাসানের প্রাপ্তি ৩ উইকেট।

২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মুস্তাফিজুর রহমানও বোলিং করেন দারুণ। প্রথম উইকেট নেন তিনি ভেতরে ঢোকানো বলে (ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য), যেটি নিয়ে কাজ করছিলেন অনেক দিন থেকে।

একগাদা শীর্ষ ক্রিকেটারকে ছাড়া খেলতে আসা ক্যারিবিয়ানদের দুর্দশা খুব বিস্ময়কর অবশ্য নয়। এই ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে তাদের ৬ জনের। একাদশের সবার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ১০৫ ম্যাচের, সেখানে বাংলাদেশের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ১ হাজার ১১৫ ম্যাচ! অভিজ্ঞতার এই পার্থক্যের প্রতিফলন তাই মাঠের ক্রিকেট পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সব বাস্তবতা মাথায় রেখেও ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং ছিল দৃষ্টিকটু। বিশেষ করে, সাকিবের কোনো জবাবই যেন জানা ছিল না তাদের।

নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচে টস জেতেন তামিম ইকবাল। আকাশ তখন মেঘে ঢাকা, চারপাশ গুমোট। আদর্শ কন্ডিশনে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

শুরুতে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের প্রথম ওভারেই রুবেল হোসেনের শর্ট বলে পুল করে ছক্কায় ওড়ান সুনিল আমব্রিস।

পরের ওভারেই আমব্রিসকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। স্টাম্পে পিচ করে একটু ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ এই ডানহাতি ওপেনার।

তৃতীয় ওভারে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ঘণ্টাখানেক সময়। বৃষ্টির পর আবার মুস্তাফিজের ছোবল। অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভা ফেরেন গালিতে লিটন দাসের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে।

হাসান প্রথম স্পেলে ছিলেন একটু ধারহীন, হয়তো ছিলেন নার্ভাস। কিন্তু সাকিব আক্রমণে আসার পর দিশাহারা হয়ে পড়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং।

আন্দ্রে ম্যাককার্থি বোল্ড হন সুইপ করতে গিয়ে। অধিনায়ক জেসন মোহাম্মেদ স্টাম্পড হন ডিফেন্স করার চেষ্টায়। সোজা বলে এলবিডব্লিউ এনক্রমা বনার। ওই ওভার শেষে সাকিবের বোলিং ফিগার তখন ৫-১-৫-৩!

৫৬ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন কাইল মেয়ার্স ও রভম্যান পাওয়েল। শুধু উইকেট ধরে রাখাই নয়, দুর্দান্ত কিছু শটও খেলেন দুজন। এই জুটির ৫০ আসে ৫১ বলে।

হাসান দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম ওভারে হজম করেন দুটি বাউন্ডারি। তবে পরের ওভারেই পুষিয়ে দেন দুটি উইকেট নিয়ে।

অফ স্টাম্প ঘেষা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে পাওয়েলকে (২৮) ফিরিয়ে ভাঙেন তিনি ৫৯ রানের জুটি। পরের বলেই এলবিডব্লিউ রেমন রিফার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি চলে যেত স্টাম্পের ওপর দিয়ে। ক্যারিবিয়ানদের তখন ছিল না কোনো রিভিউ।

পরের ওভারে আরেকটি বড় ধাক্কা খায় ক্যারিবিয়ানরা। তাদের আশা হয়ে থাকা মেয়ার্সকে ৪০ রানে থামান মেহেদী হাসান মিরাজ।

কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি লোয়ার অর্ডারেও। আকিল হোসেনকে ফিরিয়ে হাসান ধরেন তৃতীয় শিকার। সাকিব বোলিংয়ে ফিরে আলজারি জোসেফকে বোল্ড করে শেষ করে দেন ইনিংস।

বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের দিনে বিবর্ণ ছিলেন কেবল অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন। গতি, লাইন-লেংথ, ভালো ছিল না তার কিছুই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩২.২ ওভারে ১২২ (আমব্রিস ৭, যশুয়া ৯, ম্যাককার্থি ১২, জেসন ১৭, মেয়ার্স ৪০, বনার ০, পাওয়েল ২৮, রিফার ০, জোসেফ ৪, আকিল ১, হোল্ডার ০*; রুবেল ৬-০-৩৪-০, মুস্তাফিজ ৬-০-২০-২, হাসান ৬-১-২৮-৩, সাকিব ৭.২-২-৮-৪, মিরাজ ৭-১-২৯-১)।